বিজ্ঞাপন
সরাসরি না করে দেননি। তবে বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল বাস্তবসম্মত নানা কারণে এ বছর বিপিএল না করার পক্ষে। সর্বশেষ মিডিয়ার সামনে বিসিবি সভাপতি যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো-আগের বছরগুলোয় বিপিএল ছিল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ভরা। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্লেয়ার্স পেমেন্টে গড়িমসি, পেমেন্ট প্রদানে অনীহা, তা নিয়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ডের অবতারণা এবং সর্বোপরি বিসিবির আর্থিক ক্ষতি।
এসব কারণেই এক বছর টুর্নামেন্ট স্থগিত রেখে সব ত্রুটি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবার পারিশ্রমিক পরিশোধ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ করে তারপর বিপিএল আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বোর্ডের এ চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত কি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে? সত্যিই কি তাহলে এ বছর আর বিপিএল হবেই না?
সব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা শুধরে ত্রুটিমুক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনামুক্ত সুন্দর সাজানো-গোছানো ছিমছাম বিপিএলের আশায় এবারের আয়োজন বন্ধ রাখা হলো। সেটা নাহয় মানা গেল। কিন্তু তাতে করে ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তার কী হবে?
জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বোর্ডের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসিক মাইনে পাচ্ছেন। এছাড়া যারা খেলার মধ্যে আছেন, টেস্ট খেলে ম্যাচ ফি পাচ্ছেন। ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ফিও মিলছে নিয়মিত। খুব স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলের ৩ ফরম্যাটের প্লেয়ারদের বিপিএলে খেলার তাড়া অন্তত আর্থিক কারণে কম।
এর বাইরে যারা অন্তত লাল ও সাদা ফরম্যাটের দুটি ফরম্যাটে জাতীয় দলে আছেন, তাদেরও পুষিয়ে যায়। কিন্তু যারা জাতীয় দলের বাইরে, তাদের কী হবে?
তাদের তো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগই সম্বল। এর বাইরে জাতীয় লিগ আর বিসিএল খেলে নামমাত্র অর্থ মেলে। কিন্তু অন্তত অর্ধশতাধিক ক্রিকেটার আছেন, যারা ১০ থেকে ২৫ কিংবা তারও বেশি পরিমাণ অর্থ পান। এক বছর বিপিএল না হলে তারা সেই অর্থ পাবেন না। তাই জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএল না হওয়া মানে অর্থনৈতিক লোকসান।
তারা কী তা মানবেন? দুই বছর আগে বিসিবির সাবেক বোর্ড বিপিএল বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা করেছিল। কিন্তু সিনিয়র ক্রিকেটারদের চাপে শেষ পর্যন্ত বোর্ড সিদ্ধান্ত পাল্টে বিপিএলের আয়োজন করে।
এবার কি তেমন হবে? ২০২৪ সালে যিনি বিপিএল আয়োজনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন, সেই তামিম ইকবাল এখন বোর্ড সভাপতি। সব জঞ্জাল পরিষ্কার করে বিপিএলের বিরাট লোকসানের দায়ভার নতুন করে গায়ে না মেখে স্বচ্ছ, পরিষ্কার ও সাজানো-গোছানো বিপিএল আয়োজনের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তার সঙ্গীরা মানে জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররা যদি তামিমের কাছে আবদার করেন, নিজেদের অবস্থা তুলে ধরে বিপিএল আয়োজনে পীড়াপীড়ি করতে থাকেন, তখন কী হবে?
ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণে যে ওয়েলফেয়ার সংগঠন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, সেই কোয়াব যদি বিপিএল আয়োজনে বোর্ডকে চাপ দেয়, তখন বোর্ড কী করবে? খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে এ প্রশ্ন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোয়াবের ভাবনা কী? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই কথা হলো কোয়াব প্রধান মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে। মিঠুন পুরো পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছেন।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে মিঠুন বলেন, ‘দেখেন, আমি তো আর একা কোনো মতামত দিতে পারি না। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে আমার কাজ হলো ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর থাকা। আমি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং বর্তমান সিনিয়র ক্রিকেটারদের মতামতটা খুব জরুরি। আমি ভেতরে ভেতরে কথা বলেছি।’
মিঠুন যোগ করেন, ‘তবে যেহেতু টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ায় ছিল। আমি তাদের সেভাবে ডিস্টার্ব করতে চাইনি। এমন কোনো কথা বলতে চাইনি, যাতে ক্রিকেটারদের মনোযোগ ও মনঃসংযোগে চিড় ধরে। তাই অপেক্ষায় আছি, কবে জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরবে। যতদূর জানি, জাতীয় দল আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দেশে ফিরবে। দেশে ফেরার পর আমি সবার সাথে বসবো। এক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই মুশফিক ভাইসহ জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মতামতকে। তারা কী বলেন? তা আগে শুনে নেই। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মতামত নিয়েই আমি বোর্ড সভাপতির সাথে আলাপ করবো।’
ধরে নেন, বিসিবি সভাপতি বলে দিলেন, এ বছর বিপিএল আয়োজন করতে চাই না আমরা। তখন কোয়াব তথা ক্রিকেটারদের অবস্থান ও বক্তব্য কী হবে?
কোয়াব সভাপতি মিঠুনের জবাব, ‘বিসিবি যদি সত্যিই শেষ পর্যন্ত বিপিএল করতে না চায়, তবে আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে কোয়াবের পক্ষ থেকে বিসিবির কাছে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছি।’
কী সেই বিকল্প প্রস্তাব? কোয়াব প্রধানের জবাব, ‘আমরা সবাই কথা বলে স্থির করবো কী করলে সবার কল্যাণ ও মঙ্গল হয়। সবার ভালো যাতে হয়, তেমন এক বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বোর্ডকে।’
এআরবি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন