বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামো ও আমলাতন্ত্রের মধ্যেই সরকারকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ১৭ বছর পর সরকার যে দায়িত্ব পেয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব পালন সহজ নয়।
তিনি বলেন, উই হ্যাভ দ্য সেম ব্যুরোক্রেসি। বর্তমান আমলাতন্ত্রকে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ধারা চলে এসেছে, সেটিও এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন
কনসার্ট বাতিল মানেই সরকারের বাধা নয়: তথ্যমন্ত্রী
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের প্রতিটিতে নয়টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। ফলে প্রায় ৩৬ হাজার ওয়ার্ডে কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো ছোটখাটো অপরাধ ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের পাতায় তুলে ধরা হলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে দেশে কেউ স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংবাদমাধ্যমকে এসব ঘটনা প্রকাশ না করতে বলা হচ্ছে।
আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন বস্তুনিষ্ঠভাবে। এটা কোনো কিছু না। কিন্তু এটা মাথায় রাখবেন যে, এটা কোনো স্বাভাবিক সময়ে আমরা সরকারের দায়িত্বে আসিনি।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়। গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না।
আরও পড়ুন
তথ্যমন্ত্রী / সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে নির্দিষ্ট কোনো সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট বাতিলের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই সরকার সহযোগিতা করেনি—এমনটি নয়। নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে।
আরও পড়ুন
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হলেন আন্দালিভ রহমান
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে, কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে অবস্থায় চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, বরং নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যতটুকু উন্নতি হয়েছে, সেটিকে অনেক বড় উন্নতি হিসেবে দেখছেন তিনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৪০-৫০ বছর ধরে সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে জানে এবং একে অপরের পাশে থাকতে জানে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহাবস্থান রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএএস/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন