বিজ্ঞাপন
ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ঝিনঝিন করা, অসাড় লাগা কিংবা কিছুক্ষণ হাত নাড়াতে না পারার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কারও ক্ষেত্রে হাতের সঙ্গে হালকা ব্যথা বা দুর্বলতাও অনুভূত হতে পারে। বেশিরভাগ সময় ঘুমের ভুল ভঙ্গি কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাতের ওপর চাপ পড়ে থাকার কারণে এমনটা ঘটে।
কিছুক্ষণ পর হাতের অবস্থান পরিবর্তন করলে বা নড়াচড়া করলে অস্বস্তি কমেও যায়।
তবে প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর একই সমস্যা হলে কিংবা অসাড়তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ সাধারণ ঘুমের ভঙ্গির পাশাপাশি স্নায়ু, কবজি বা ঘাড়সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।
ঘুমের ভুল ভঙ্গিতে হাত অবশ হতে পারে
রাতে ঘুমানোর সময় অনেকেই অজান্তে হাতের ওপর মাথা রেখে ঘুমান। আবার কখনো শরীরের নিচে হাত চাপা পড়ে থাকে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে থাকলে হাতের স্নায়ু ও রক্তনালিতে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে হাতের অনুভূতি কমে গিয়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা দেখা দিতে পারে।
কবজি দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো থাকলেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে। ঘুম থেকে উঠে হাত নাড়ানোর পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অনুভূতি ফিরে এলে সাধারণত সাময়িক চাপের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
কার্পাল টানেল সিনড্রোমের লক্ষণও হতে পারে
বারবার হাত অবশ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে কার্পাল টানেল সিনড্রোম। কবজির একটি সরু পথের মধ্য দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান নার্ভের ওপর চাপ পড়লে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রাতে বা ভোরে হাত ও আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশভাব, ব্যথা কিংবা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
কখনো কখনো জিনিসপত্র ধরতে বা দৈনন্দিন কাজ করতে হাতের শক্তি কম মনে হতে পারে। এমন উপসর্গ নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুম থেকে উঠে হাত অবশ হলে কী করবেন?
হাত অবশ হয়ে গেলে প্রথমে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। হাত ও কবজি ধীরে ধীরে নড়ানোর চেষ্টা করুন। আঙুলগুলো আস্তে করে মুঠ করুন এবং আবার খুলুন। কবজি ধীরে ধীরে ঘোরাতে পারেন। হাতের ওপর যদি চাপ পড়ে থাকে, তাহলে অবস্থান পরিবর্তন করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
তবে অবশ হাতকে জোরে ঝাঁকানো, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মালিশ করা কিংবা ব্যথা থাকা অবস্থায় জোর করে ব্যায়াম করা ঠিক নয়। রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে হাত না রাখার চেষ্টা করুন এবং কবজি দীর্ঘক্ষণ ভাঁজ করে রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠে অল্প সময়ের জন্য হাত ঝিনঝিন করা সাধারণত বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত নয়। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিদিন এমন হয়, অসাড়তা অনেকক্ষণ থাকে, কবজিতে নিয়মিত ব্যথা হয় কিংবা হাতের শক্তি কমে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে উঠেই মুখ শুকিয়ে যায় কেন?
বিশেষ করে দিনের বেলাতেও হাত বা আঙুল অবশ থাকা, বারবার জিনিস হাত থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিন ছড়িয়ে পড়ার মতো উপসর্গ থাকলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
আরও পড়ুন
মুখে কামড় লেগে রক্তপাতে চিনি দিয়ে সত্যিই কি বন্ধ হয়?
হঠাৎ হাত অবশ হলে সতর্ক
সব ধরনের হাত অবশ হওয়াকে সাধারণ সমস্যা ভাবা ঠিক নয়। যদি হঠাৎ হাত অবশ হওয়ার পাশাপাশি শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যায়, মুখের এক পাশ বেঁকে যায়, কথা জড়িয়ে যায়, দৃষ্টিতে সমস্যা হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণ গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন