বিজ্ঞাপন
গাজীপুরের শ্রীপুরে মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে খামারিরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জৈনাবাজারে শিমুলতলা মুরগির খামারি অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে উপজেলার শতাধিক মুরগি খামারি মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে প্রায় আধঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
বিক্ষোভে সমাবেশ অংশ নেয়া খামারিরা জানান, সম্প্রতি বহুজাতিক মুরগির খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কারণ ছাড়াই বস্তা প্রতি ১০০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে ছোট খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এদিকে ডিমের দামও প্রতিনিয়তই কমছে। খাবারের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাজারে ডিমের দাম ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। একে প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন।
সরকার উৎসের কর প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়া, ভুট্টা ও খাদ্য উপাদানের ওপর একাধিক ধাপে আরোপিত কর প্রত্যাহার করা, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ, কৃষির মতো মুরগির খাদ্যে ভর্তুকি দেওয়া, বিদ্যুৎ বিলে ছাড়, খামারের বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও একই রেট চালু করাসহ বিএসটিআই কর্তৃক অভিযানকে হয়রানি উল্লেখ করে তা বন্ধের দাবি জানান।
আরও পড়ুন
৮০ টাকার ঝুরা গোস্তের খিচুড়ি, ১৫ দিনেই ভাগ্য বদল রাফির
বাংলাদেশ প্রান্তিক মুরগি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজি ফিডে প্রায় দুই টাকা করে দাম বাড়িয়েছে। প্রতি বস্তায়ও ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে মুরগি খামারির ডিম উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ডিমের দাম কমেছে।
ভেটেনারি চিকিৎসক ডা. এমরানুল হক স্বপন বলেন, মুরগির ডিম উৎপাদনে খামারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই খাদ্য বাবদ খরচ হয়। বর্তমানে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
খামারিরা খাদ্যের দাম কমানো ছাড়াও ভুট্টা ও অন্যান্য কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি, কৃষিখাতের মতো পোলট্রি খাতেও বিদ্যুতে সাশ্রয়ী রেট এবং ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
বাংলাদেশ প্রান্তিক খামারি পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান মামুন এই খাতের খাদ্যের দাম কমানোর দাবি জানান। দাবি না মানলে ১ সেপ্টেম্বর কাফনের কাপড় পরে দাবি আদায়ে আবারও রাস্তায় নামাসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।
শিহাব খান/এনএইচআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন