বিজ্ঞাপন
বর্তমানে বাংলাদেশে আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার অত্যন্ত সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময়। করদাতা ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এটি একটি স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর কর্মকর্তারাও এই পেশায় সহজে যুক্ত হতে পারেন। অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে এই পেশায় সম্মান, পরিচিতি ও আয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
আয়কর আইনজীবী হলেন এমন একজন পেশাদার বিশেষজ্ঞ, যিনি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর হিসাব তৈরি, বার্ষিক রিটার্ন জমা দেওয়া এবং কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বা বিরোধ মেটাতে করদাতাদের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকেন। আয়কর আইনজীবী ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার বা আইটিপি নামেও পরিচিত। আয়কর আইনজীবী হিসেবে কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন সে বিষয়েই আজকের আলোচনা।
আয়কর আইনজীবীর কাজসমূহ
একজন আয়কর আইনজীবীর বিভিন্ন ধরনের কাজ থাকে। এখানে আয়কর আইনজীবী মূল কাজগুলো আলোচনা করা হলো।প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির রিটার্ন তৈরি এবং দাখিল: করদাতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব করে সঠিকভাবে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে এবং তা যথা সময়ে জমা দিতে হবে।পরামর্শ দেওয়া: করের বোঝা কমানোর বৈধ উপায় বা কর পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া।শুনানি ও প্রতিনিধিত্ব করা: আয়কর অফিসে কর নির্ধারণ বা অডিট সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে করদাতার পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।মামলা পরিচালনা করা: আয়কর বিভাগ ও কর আপিল ট্রাইব্যুনালে কর সংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা আইনি মামলা থাকলে সেগুলো পরিচালনা করা।
আয়কর আইনজীবীর শিক্ষাগতযোগ্যতা
আয়কর আইনজীবী হতে চাইলে আইন, কর, হিসাববিজ্ঞান, ব্যাংকিং ও অডিটিংসহ বাণিজ্য বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন ট্যাকসেশনসহ যে কোনো বিষয়ে ডিগ্রিধারীরাও এনবিআরের অধীনে এই পেশার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আয়কর আইনজীবী হতে হলে যে বিষয়ে ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন:আইন বিষয়ে ডিগ্রি (এলএলবি)কর বা হিসাববিজ্ঞানসহ বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিঅডিটিংসহ ব্যাংকিং বিষয়ে ডিগ্রিডিপ্লোমা ইন ট্যাকসেশনসহ যে কোনো বিষয়ে ডিগ্রিউচ্চতর অডিটিংসহ ব্যাংকিং ডিপ্লোমা এবং যে কোনো বিষয়ে ডিগ্রি
আরও পড়ুন
তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি
আয়কর আইনজীবীর পরীক্ষার ধাপ ও নম্বর বণ্টন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে আয়কর আইনজীবী বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার নিবন্ধন পরীক্ষা সাধারণত লিখিত ও মৌখিক (ভাইভা) দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৩ ঘণ্টায় মোট ৮০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। পাস নম্বর ৪০। এরপর ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়; যেখানে পাস নম্বর ১০।
লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস, বিষয়বস্তু ও পড়াশোনা
আয়কর আইনজীবী বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মূলত কর ও হিসাববিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।আয়কর আইন: নতুন আয়কর আইন, অর্থ আইন/অধ্যাদেশ, সাম্প্রতিক অর্থ আইন, আয়কর বিধিমালা, উৎসে কর এবং দানকর আইনের বাস্তব প্রয়োগ ও বিধান থেকে প্রশ্ন থাকে ৪০-৫০ নম্বরের।হিসাববিজ্ঞান: জাবেদা, খতিয়ান, রেওয়ামিল, চূড়ান্ত হিসাব এবং আয়কর সংক্রান্ত বেসিক হিসাব থেকে প্রায় ২০-৩০ নম্বর।অন্যান্য: বাংলা ও ইংরেজি ভাষার মৌলিক দক্ষতা এবং কর সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান বা ব্যবহারিক হিসাব।
প্রস্তুতির কার্যকর কৌশল
বিগত বছরের প্রশ্ন: আগের বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।নিয়মিত অধ্যায়ন: আইনের ধারা ও উপধারাগুলো নোট করে পড়তে হবে।মডেল টেস্ট: পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে হবে।
আরও পড়ুন
কর্মী নেওয়াই শেষ কাজ নয়, তার উদ্দীপনাও ধরে রাখতে হয়
আয়কর আইনজীবীর নিয়োগ প্রক্রিয়া
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে আয়কর আইন অনুযায়ী কর আইনজীবী বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার (আইটিপি) হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন এবং বিসিএস কর একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করতে হয়।
আয়কর আইনজীবীর তালিকাভুক্তি বা নিয়োগের ধাপসমূহ
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: এনবিআর বা বিসিএস কর একাডেমির মাধ্যমে কর আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।অনলাইন আবেদন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও ফি জমা দিতে হয়।পরীক্ষায় অংশগ্রহণ: আয়কর আইন, হিসাববিজ্ঞান এবং অন্যান্য সম্পর্কিত বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।লাইসেন্স প্রাপ্তি: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আইটিপি সনদ বা তালিকাভুক্তি করা হয়। যার মাধ্যমে তারা করদাতার পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশন: সনদ পাওয়ার পর স্থানীয় বা জেলা ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়ে পেশাগতভাবে আয়কর আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করা যায়।
এছাড়াও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিবন্ধিত আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) কিংবা কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টরা (সিএমএ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার প্রতিনিধি বা আয়কর আইনজীবী হিসেবে কাজ করার আইনগত যোগ্যতা অর্জন করেন।
আয়কর আইনজীবীর বয়সসীমা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী আয়কর আইনজীবী বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার হিসেবে সনদ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো বয়সে এই পেশায় আসার জন্য আবেদন ও সনদ লাভ করা যায়।
আয়কর আইনজীবীর কাজের ক্ষেত্র
নিজস্ব চেম্বার বা ফার্ম খুলে স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করা যায়। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে চাকরি করার সুযোগ থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) বা ট্যাক্স ফার্মে কাজের সুযোগ।
আরও পড়ুন
এসএসসির পর ডিপ্লোমার ১০ পথ, কোন শিক্ষায় কেমন চাকরি
আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ারের সুবিধা ও আয়
আয়কর আইনজীবীদের নির্ধারিত কোনো মাসিক বেতন নেই। তাদের আয় সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাদের অভিজ্ঞতা, কাজের ধরণ, মামলার সংখ্যা এবং মক্কেলের ওপর। প্রতিটি মামলার জন্য মক্কেলের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ফি বা পেশাগত সম্মানী নেন আয়কর আইনজীবীরা। যা থেকে মাসে লক্ষাধিক টাকা বা তার চেয়েও বেশি আয় হতে পারে। তবে নতুনদের ক্ষেত্রে জুনিয়র হিসেবে আইন চেম্বারে মাসিক ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী পাওয়া যায়। করপোরেট উকিলদের ক্ষেত্রে সাধারণত ২১ থেকে ৬০ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
এমআইএইচ
বিজ্ঞাপন