জাতীয়

করপোরেট জীবনটা স্কুলের মতো, পরীক্ষা চলতেই থাকে: তরুণীর আক্ষেপ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সপ্তাহজুড়ে কাজের চাপ সামলে ছুটির দুই দিন একটু স্বস্তিতে কাটানোর কথা। কিন্তু অনেকের কাছে শুক্রবার- শনিবারও যেন পুরোপুরি ছুটি নয়। ল্যাপটপে পড়ে থাকা কাজ, শেষ না হওয়া দায়িত্ব আর পরের কর্মদিবসের চিন্তা ছুটির সময়টাকেও অস্বস্তিতে ভরিয়ে তোলে। এমন অভিজ্ঞতার কথাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর এক নারী। চারু গুপ্তা নামের ওই নারী গত তিন বছর ধরে চাকরি করছেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিনি করপোরেট জীবনের ক্রমাগত চাপকে স্কুলজীবনের পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মনে হয়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও যেন স্কুলের পরীক্ষা শেষ হয়নি। বরং প্রতিদিনই তাকে কোনো না কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। চারু বলেন, চাকরি করার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মনে হয় তিনি স্কুলে আছেন ও পরীক্ষা চলছে। অফিসের একটি দিন কোনোভাবে পার করে পরের দিনের ‘পরীক্ষা’র জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার চিন্তা তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। এই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় সপ্তাহান্তে। ছুটির দিনে তেমন কোনো কাজের পরিকল্পনা না থাকলেও তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে ল্যাপটপে পড়ে থাকা অসমাপ্ত কাজ। কাজগুলো শেষ করা দরকার—এটা জানার পরও তিনি অনেক সময় সেগুলো করতে বসতে পারেন না। শনিবার ও রোববারের বড় একটি অংশ এভাবেই কেটে যায় কাজটি না করে শুধু কাজটি নিয়ে চিন্তা করতে করতে। শেষ পর্যন্ত রোববার (ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন) রাত ঘনিয়ে আসে। তখন আর কাজ ফেলে রাখার সুযোগ থাকে না। কোনো উপায় না থাকায় তিনি ল্যাপটপ খুলে বসেন ও সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেন। চারুর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ল্যাপটপ বন্ধ করে তিনি আবার পরের দিনের কর্মদিবস নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। তার মনে হয়, কোনোভাবে যেন পরের দিনটাও পার করে দিতে পারেন। এই পরিস্থিতি তাকেই প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে- তিনি এমন হয়ে গেলেন কেন। করপোরেট চাকরির এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকের কাছেই পরিচিত মনে হয়েছে। বিশেষ করে, রোববার রাতের সেই অস্বস্তি, যখন পরদিন সোমবার এবং আবার কাজে ফিরতে হবে- চারুর বক্তব্যে সেটিই যেন অনেক কর্মজীবীর নিজের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে। তার ভিডিওতে মন্তব্য করে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, তারও একই অবস্থা। তবে শনিবারকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, কারণ পরের দিনের চিন্তা তখন থাকে না। আরেকজন করপোরেট চাকরিকে সরাসরি পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এখানে পরীক্ষার মতোই পরিস্থিতি, শুধু পার্থক্য হলো- এখানে সহকর্মীদের কাছে প্রশ্ন করা বা অন্যের সাহায্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আরেক ব্যবহারকারী চারুর অভিজ্ঞতাকে ‘১০০ শতাংশই নিজের সঙ্গে মিলে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য একজন কর্মক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া এবং নিজের কাজের কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার হতাশার কথাও তুলে ধরেছেন। চারুর বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে কাজের চাপের পাশাপাশি অসমাপ্ত কাজ নিয়ে উদ্বেগ, কাজ পিছিয়ে রাখার প্রবণতা এবং সপ্তাহান্তেও অফিসের চিন্তা থেকে বের হতে না পারার অভিজ্ঞতা। স্কুলজীবনে পরীক্ষার আগে যেমন পড়াশোনা বাকি থাকার চাপ কিংবা পরের দিনের পরীক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হতো, তার কাছে করপোরেট জীবনেও অনেকটা একই ধরনের অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। তার এই তুলনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে। কারণ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব, সময়সীমা ও প্রত্যাশার চাপ অনেকের ব্যক্তিগত সময়েও প্রভাব ফেলে। ফলে ছুটির দিনেও ল্যাপটপে পড়ে থাকা কাজ কিংবা সোমবারের অপেক্ষা অনেকের স্বস্তির সময়কে উদ্বেগের সময়ে পরিণত করে। চারু গুপ্তের ভিডিও সেই পরিচিত ‘সানডে নাইট অ্যাংজাইটি’ বা রোববার রাতের কর্মদিবস-ভীতি নিয়েই নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তার নিজের অভিজ্ঞতা হয়তো ব্যক্তিগত, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বলছে- করপোরেট জীবনে এমন অনুভূতির সঙ্গে অনেক কর্মীরই পরিচয় রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>