বিজ্ঞাপন
\'সাধারণের তুলনায় বিশেষায়িত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের অপরাধকে দ্বিগুণ শাস্তির আওতায় আনতে হবে\' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি দেওবন্দি আলেম, লেখক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মুফতি হারুন ইজহার। এ বিষয়ে ২৫ আগস্ট রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন তিনি।
মুফতি হারুন ইজহার লিখেছেন, ‘একজন মাদরাসা শিক্ষকের ডিএনএ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট যৌন কেইসের প্রমাণ হিসেবে প্রচার হচ্ছে।
এর আগে ওই শিক্ষক তার সাফাঈ বয়ান প্রচার করেছিলেন। আমি তখন সেটা গ্রহণ করিনি, আবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগটাও গ্রহণ করিনি। কেননা কোনটাই প্রমাণিত ছিল না।
এখন ডিএনএ পরীক্ষাকে কি আমরা মানদণ্ড ধরে তাকে অপরাধী গণ্য করবো?
মিডিয়া তো তাই করছে। আর তাই গতকাল যারা তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন; তারাও এখন অবস্থান রদবদল করেছেন।
ফরেনসিক তথ্য চূড়ান্ত সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড নয়, ইসলামি জুডিশিয়ারিতে আধুনিক উপকরণকে প্রমাণ বা \'বাইয়্যিনাহ্\' হিসেবে নয়, তবে আলামত বা \'করীনাহ\' হিসেবে ধরা হয়।
তাছাড়াও দেশের দূর্নীতিবাজ কাঠামোতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ। আবার ফরেনসিকের কালক্ষেপণে অপরাধীর জন্য তৈরি হয় সুবিধা।
সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার সাথে শেখ হাসিনার একটা বিরোধ ছিল ফরেনসিককে বিচারবিভাগের আওতায় আনার প্রশ্নে।
বিদ্যমান অবস্থার সংস্কার জরুরি, যেখানে অভিযোগকারী ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী একই প্রতিষ্ঠান। আমরা মনে করি ফরেনসিককে সরাসরি বিচার বিভাগের আওতায় যাওয়া উচিত।
যদিও ইসলামি আইনে ফরেনসিক মানদণ্ড নয়, কিন্তু স্বীকারোক্তি অর্জনে এটাকে একটা প্রেসার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে নির্দ্বিধায়।
ফরেনসিক একটা বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা সন্দেহ নেই, কিন্তু তার প্রশাসনিক প্রয়োগে অস্বচ্ছতার অবকাশ বিদ্যমান, বিশেষত আমাদের সমাজ বাস্তবতায়।
সুতরাং বিতর্ক শেষ হচ্ছে না। থেকে যাচ্ছে সংকট, অপরাধী হয়েও শাস্তি না পাওয়ার সংকট, আর অপরাধী না হয়েও মবের শিকার বা মিডিয়ায় অপমানিত হওয়ার সংকট। এসব আমাদের কাঠামোগত সংকট।
এমন কাঠামোগত সিদ্ধান্তহীনতার ফলাফল ভয়াবহ। একদিকে অপরাধকে হুটহাট অস্বীকার করার প্রবণতা যেটা আলেম সমাজের একাংশের একটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অন্যদিক অতিউৎসাহী অপপ্রচার যেটা বদদ্বীন সেক্যুলার সমাজের চরিত্রে।
যে কথা দিয়ে শেষ করতে চাই, তা হলো—ফরেনসিক বা অন্যকিছু নয়, বরং নিজস্ব তদন্ত প্রয়াসে এগিয়ে আসতে হবে মাদ্রাসার কেন্দ্রীয় উচ্চ কর্তৃপক্ষকে এবং সাধারণের তুলনায় বিশেষায়িত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের অপরাধকে দ্বিগুণ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অপরাধের শাস্তি, আরেকটা ভণ্ডামির শাস্তি।\'
এসইউ/এএসএম
বিজ্ঞাপন