জাতীয়

মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই ৮টি, সব মিলিয়ে কতটি ফাউলের শিকার ভিনিসিয়ুস?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওযার পর থেকেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রতিপক্ষের ফাউল, রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং মাঠে তার সঙ্গে আচরণ- প্রতিবারই নতুন করে আলোচনায় আসে বিষয়গুলো। লা লিগার এবারের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হলো না। এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচে ৮ বার ফাউলের শিকার হতে হয়েছে ভিনিসিয়ুসকে। মাঠে থাকা অন্য কোনো খেলোয়াড় এতবার ফাউলের শিকার হননি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষোভের কারণ শুধু ফাউলের সংখ্যা নয়। তাদের অভিযোগ, ভিনিসিয়ুসের ওপর প্রতিপক্ষের করা অপরাধের তুলনায় রেফারিরা যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেননি। এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটের একটি ঘটনাকে সামনে এনে আবারও স্প্যানিশ রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। খেলা চলার সময় বল মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার পর এস্পানিওলের খেলোয়াড় কালাত্রাভা ভিনিসিয়ুসের কোমরের নিচের অংশে লাথি মারেন। ঘটনাটির জন্য কোনো কার্ড দেখানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই মাঠে থেকে যান কালাত্রাভা। রিয়ালের দৃষ্টিতে, ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের এমন আচরণের পরও শাস্তি না পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। পরিসংখ্যানও ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে রিয়ালের অভিযোগকে কিছুটা জোরালো করছে। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে লা লিগায় ৪৮৯ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন ভিনিসিয়ুস, যা এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দানি পারেহো। তবে একই সময়ে ভিনিসিয়ুসের চেয়ে ৪৩টি ম্যাচ কম খেলেছেন পারেহো। অর্থাৎ ম্যাচের সংখ্যার বিবেচনাতেও ভিনিসিয়ুসের ওপর প্রতিপক্ষের ফাউলের চাপ বেশ উল্লেখযোগ্য। রিয়ালের অভিযোগ অবশ্য ফাউলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মূল প্রশ্ন- ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করার পর প্রতিপক্ষ কতবার কার্ড দেখছে? স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা কোনো ডিফেন্ডারকে হলুদ কার্ড দেখাতে গড়ে ১৬টি ফাউল প্রয়োজন হচ্ছে। বিপরীতে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রে গড়ে প্রতি ৩টি ফাউলে একটি হলুদ কার্ড দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি ফাউল করতে হচ্ছে। এ জায়গাটিকে ফোকাস করেই রিয়ালের অভিযোগের মাত্রাটা বেশি। রিয়ালের তুলে ধরা পরিসংখ্যানে লাল কার্ডের ক্ষেত্রেও পার্থক্য আরও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ভিনিসিয়ুসকে করা ৬৮টি গুরুতর ফাউলের মধ্যে গড়ে একটি ঘটনায় প্রতিপক্ষ লাল কার্ড দেখেছেন। লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রে সেই অনুপাত ১১টি গুরুতর ফাউলে একটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। রিয়ালের মতে, এই পার্থক্যই দেখাচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে প্রতিপক্ষ যেভাবে ফাউল করছে এবং রেফারিরা যেভাবে সেগুলো বিবেচনা করছেন, সেখানে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে ১৩১টি ফাউল হয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিনিসিয়ুস ও ইয়ামালকে ফাউল করার পর প্রতিপক্ষের হলুদ কার্ড পাওয়ার হার প্রায় একই। দুজনের ক্ষেত্রেই গড়ে প্রতি ৩টি ফাউলে একটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরিসংখ্যানের এই পার্থক্যই রিয়াল মাদ্রিদের অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এস্পানিওলের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভিনিসিয়ুসের পক্ষে কথা বলেছেন কোচ হোসে মরিনহো। মাঠে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের সঙ্গে প্রতিপক্ষের আচরণকে তিনি তুলনা করেছেন ‘বুলিং’-এর সঙ্গে। মরিনহো বলেন, ‘প্রথম মিনিট থেকেই মনে হয়, একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি হয়ে আছে। এখন আমি তাকে ফাউল করছি, এখন তুমি ফাউল করছ। একজন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড নিয়ে বের হচ্ছে, আরেকজন কোনো কার্ড ছাড়াই ঢুকছে।’ এরপর বর্তমান সময়ের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সামাজিক যুগে আছি। কিন্তু ভিনির ক্ষেত্রে আমরা এখনো বুলিংয়ের যুগেই আছি।’ আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>