জাতীয়

৩ কারণে বিপন্ন হচ্ছে প্রকৃতির পরম বন্ধু ‘গন্ধগোকুল’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সাব্বির হোসাইন ​সন্ধ্যা ঘনিয়ে চারপাশ কিছুটা নিঝুম হতেই হঠাৎ বাতাসে ভেসে আসে পোলাওয়ের মতো সুবাস। আশপাশে কোনো রান্নার আয়োজন না থাকলেও ছড়ানো এই মিষ্টি গন্ধের রহস্য মূলত একটি প্রাণী ‘গন্ধগোকুল’। লোকালয়ে এদের এলাকাভিত্তিক নাম খাটাশ, নেল কিংবা বাগডাশ। কিন্তু চরম অসংবেদনশীলতা, অজ্ঞতা আর গুজবের জেরে এই নিরীহ বন্যপ্রাণীটি এখন ভয়াবহ সংকটের মুখে। সম্প্রতি জামালপুরের বাঁশচড়া ইউনিয়নের সামু মন্ডলের মোড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এক তথাকথিত ‘বাঘ’ আতঙ্ক। অদ্ভুতদর্শন প্রাণীটিকে চিনতে না পেরে লোকালয়ে তৈরি হয় অহেতুক ভীতি। একপর্যায়ে ফাঁদ পেতে জালে আটকে ফেলে সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। প্রাণ হারানোর পর স্পষ্ট হয়, আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রাণীটি হিংস্র কোনো বাঘ ছিল না সেটি ছিল প্রকৃতির নীরবে সেবা করে যাওয়া এক বিপন্ন গন্ধগোকুল। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন)-এর লাল তালিকায় থাকা গন্ধগোকুল মূলত নিশাচর এবং অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির। মানুষের কাছাকাছি থাকলেও এরা স্বভাবগতভাবেই ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলে। এদের শরীরের বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসের কারণেই বাতাসে পোলাওয়ের মতো মিষ্টি সুবাস ছড়ায়, যা দিয়ে এরা নিজস্ব সীমানা চিহ্নিত করে। গন্ধগোকুল কৃষি ও বনের নীরব কারিগর। ​বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্ধগোকুল প্রকৃতির পরম বন্ধু। কৃষকের ফসলের ক্ষতি করা ইঁদুর ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে এরা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। সবচেয়ে বড় বিষয়, বট বা অন্যান্য বন্য ফলের বীজ এদের পরিপাকতন্ত্র হয়ে বেরিয়ে আসার পর সেই বীজের শতভাগ অঙ্কুরোদগম হয়। অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে নতুন বন ও বনায়ন সৃষ্টিতে এদের ভূমিকা অতুলনীয়। আরও পড়ুন এক রানির কয়েকশো রাজা, পরোপকারী মৌমাছির বিচিত্র জীবন ​গন্ধগোকুল বিলুপ্তির মুখোমুখি হওয়ার ৩ মূল কারণ ​ভুল ধারণা ও গুজব: বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকা এবং হাঁস-মুরগি ধরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে প্রায়ই ফাঁদ পেতে এদের হত্যা করা হয়। আবাসভূমি সংকোচন: বড় গাছপালা, পুরোনো বাগান ও ঘন ঝোপঝাড় কেটে ফেলার কারণে এদের সুনির্দিষ্ট আশ্রয়স্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা: নিশাচর হওয়ায় রাতের অন্ধকারে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পিষে প্রাণ হারাচ্ছে এরা। তবে আশার কথা হচ্ছে, পাবনার বেড়া উপজেলার কিছু এলাকায় সচেতনতার কারণে এদের বিচরণ এখনো তুলনামূলক ভালো। সেখানকার মানুষ এদের ওপর চড়াও না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থান বজায় রেখেছে। ​প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কোনো প্রাণীকে নির্বিচারে হত্যা করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। লোকালয়ে কোনো অচেনা বা বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি টের পেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ কিংবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তাৎক্ষণিক খবর দেওয়াই সচেতন নাগরিকের পরিচয়। গুজবে কান না দিয়ে বিপন্ন গন্ধগোকুলসহ সব অবলা বন্যপ্রাণী রক্ষায় গণসচেতনতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। লেখক: শিক্ষার্থী,তা\'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>