বিজ্ঞাপন
দুই গোলে পিছিয়ে ছিল আল নাসর। তার ওপর ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই গোলরক্ষক বেঞ্চুকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। প্রথমার্ধ শেষেও স্কোরলাইন ছিল ০-২। এমন পরিস্থিতিতে জয় তো দূরের কথা, ম্যাচে ফেরাটাই ছিল কঠিন। কিন্তু ১০ জনের আল নাসর শেষ পর্যন্ত দেখাল অবিশ্বাস্য মানসিক দৃঢ়তা। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে আল ইত্তিফাককে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
অবাক করার মতো বিষয়, প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আল নাসর। গোলের সুযোগই তৈরি করতে পারছিলো না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোনালদোকে তুলে নেন কোচ অ্যাঙ্গে পোস্তেকগলু। রোনালদোকে তুলে নিতেই ঘুরে দাঁড়ায় আল নাসর এবং শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় ৩-২ গোলে।
সৌদি প্রো লিগের ম্যাচটিতে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে আল নাসর। মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক বেঞ্চু লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। সংখ্যায় কমে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আল ইত্তিফাক প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড নেয়।
বিরতির সময় আল নাসর কোচ পোস্তেকোগ্লু রোনালদোকে তুলে নেন। তার জায়গায় মাঠে নামেন সৌদি মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ আল-খাইবারি। রোনালদোকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে অবশ্য পরিষ্কার ব্যাখ্যাই দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ।
পোস্তেকগ্লু বলেন, ‘আমরা জানি, ক্রিশ্চিয়ানো খুব বেশি ফুটবল খেলেনি। ১০ জন নিয়ে ৪৫ মিনিট পর তাকে মাঠে রাখাটা কঠিন ছিল। প্রথমার্ধে সে দারুণ কাজ করেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের ভিন্ন একটি পরিকল্পনা দরকার ছিল।’
রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা না করে ম্যাচে ১০ জনের আল নাসরের লড়াইকে সামনে আনার আহ্বানও জানান তিনি। ‘আমার মনে হয়, আজকের বড় গল্প অন্য কিছু। আল নাসরের ১০ জন খেলোয়াড় অবিশ্বাস্য ছিল। আপনারা শুধু সেটি নিয়েই লিখুন,’ বলেন পোস্তেকগ্লু।
দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আল নাসরের প্রত্যাবর্তনের গল্প শুরু হয় ম্যাচের শেষ ১৬ মিনিটে। প্রথমে ব্যবধান কমান সাদিও মানে। এরপর সমতা ফেরানোর গোলটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হোয়াও ফেলিক্স। তার অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন আবদেলেলাহ আল-আমরি। ফলে ২-২ সমতায় ফিরে আসে আল নাসর।
তাতেও থামেনি তারা। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন মানে। সাবেক লিভারপুল ফরোয়ার্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে আল নাসরকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ১০ জনের দলটি।
একসময় ০-২ পিছিয়ে থাকা এবং একজন খেলোয়াড় কম থাকা দলটির এমন প্রত্যাবর্তন তাই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে উঠেছে।
ম্যাচ শেষে নিজের দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন পোস্টেকোগ্লু। তার মতে, এই জয় শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতার কারণে আসেনি; বরং কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতাই আল নাসরকে জয় এনে দিয়েছে। ‘কোনো কিছুই ভাগ্যের কারণে হয় না। সবকিছুর পেছনে কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম থাকে, আজ যেমনটা আপনারা দেখেছেন,’ বলেন তিনি।
পোস্তেকগ্লুর মতে, একজন ফুটবলারের মান শুধু তার দক্ষতায় নির্ধারিত হয় না। কঠিন সময়ে তার চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। ‘আপনাকে বুঝতে হবে, বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মান নিয়ে নয়, তারা কী ধরনের মানুষ সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, তারা অসাধারণ মানের খেলোয়াড়। কিন্তু তারা যোদ্ধাও। আজ তারা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি যতই হোক, তারা সেটা মেনে নিতে রাজি ছিল না। আর এটাই খেলার দক্ষতার চেয়েও বেশি কিছু দেখায়। এটা তাদের চরিত্রের পরিচয়।’
পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের দায়িত্ব শেষ করে আল নাসরে ফিরেছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এটি তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুম। আল নাসরের হয়ে সর্বশেষ আল রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৯৭৭তম গোল করেছিলেন তিনি। ফলে হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের আরও কাছে চলে গেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
তবে আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে দলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে আল নাসরকে। শেষ পর্যন্ত মানের জোড়া গোল এবং আল-আমরির গোলে ৩-২ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পোস্টেকোগ্লুর দল।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন