বিজ্ঞাপন
ম্যানচেস্টার সিটি থেকে টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার পরই নিজের নামের নাম ও পরিচিতিতে পরিবর্তন এনেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার সাভিও। এতদিন ফুটবলবিশ্বে যিনি ‘সাভিনহো’ নামে পরিচিত ছিলেন, টটেনহামে এসে নিজের জার্সিতে লিখিয়েছেন ‘সাভিও’। ফলে নতুন ক্লাবে তার নাম বদলের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
মঙ্গলবার সিটি থেকে সাভিওর টটেনহামে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নতুন ক্লাবে তিনি পরবেন ১৭ নম্বর জার্সি। তবে সেখানে নাম হিসেবে ‘Savinho’ নয়, লেখা থাকবে ‘Sávio’।
তার আসল নাম কী? কেন এই পরিবর্তন?
এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। ২২ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান তারকার পুরো নাম সাভিও মোরেইরা দে অলিভেইরা। ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে খেলেছেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে ফ্রান্সের ক্লাব ত্রোয়ার সঙ্গে চুক্তি করেন।
পরবর্তী সময়ে ত্রোয়ার মালিকানাধীন ফুটবল নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় ধারে খেলেন তিনি। আর সেখানেই নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় উত্থান।
জিরোনার হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়ে ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করেন সাভিও। তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের নির্বাচকদেরও। জিরোনায় থাকাকালীনই প্রথমবার ব্রাজিলের জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নাম নিয়ে গল্প।
জিরোনায় ছিলেন ‘সাভিও’
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে জিরোনায় তিনি ‘Sávio’ নামেই খেলতেন। এমনকি জিরোনার ১৬ নম্বর জার্সিতেও তাঁর নাম লেখা ছিল ‘Sávio’। কিন্তু ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর নামের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনেন তিনি। তখন জার্সিতে বেছে নেন ‘Savinho’ নামটি।
এর পেছনে ছিল ব্রাজিল জাতীয় দলের একটি ঘটনা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নাম পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাভিও বলেছিলেন, জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়ার সময় তার জার্সিতে ‘Savinho’ লেখা হয়েছিল। তার ভাষায়, ‘জাতীয় দলে প্রথমবার ডাক পাওয়ার সময় তারা জার্সিতে Savinho লিখেছিল।’
তিনি আরও জানান, জিরোনার মানুষ তাকে মূলত ‘Savinho’ নামেই বেশি চিনতে শুরু করেছিলেন, যদিও ক্লাবের জার্সিতে লেখা থাকত ‘Sávio’। এরপর সিটি থেকে জার্সির নাম ঠিক করার সময় তিনি নিজেই ‘Savinho’ বেছে নেন। ‘তাই আমি সিটিকে বলেছিলাম জার্সিতে Savinho লিখতে। আশা করেছিলাম, এই নামটিও আমার জন্য সৌভাগ্য নিয়ে আসবে,’ বলেছিলেন তিনি।
দুই বছর পর আবার ‘সাভিও’
সিটিতে দুই মৌসুম কাটানোর পর এবার আবার নিজের পুরোনো নাম ‘Sávio’-তে ফিরে গেলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। সিটিতে প্রথম মৌসুমে অবশ্য বেশ ভালোই করেছিলেন তিনি। সতীর্থদের দিয়ে ১৩টি গোল করিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় মৌসুমে পেপ গার্দিওলার পরিকল্পনায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারান তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত মৌসুমে মাত্র ১৩টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।
ফলে সিটিতে তার সময়টা প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। এরই মধ্যে গত গ্রীষ্ম থেকেই সাভিওকে দলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল টটেনহাম। অবশেষে এবার তাকে দলে পেতে সফল হয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দলবদলের মোট মূল্য হতে পারে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।
নতুন ক্লাবে নতুন পরিচয়?
টটেনহামে এসে আবার ‘Sávio’ নাম বেছে নেওয়ার বিষয়ে এখনো ক্লাব কিংবা খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে তার ক্যারিয়ারের গতিপথ দেখলে বিষয়টি অনেকটাই প্রতীকী বলে মনে হতে পারে।
জিরোনায় ‘Sávio’ নামেই নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের সামনে পরিচিত করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক, এরপর ম্যানচেস্টার সিটিতে বড় দলবদল। কিন্তু সিটিতে নিজের জায়গা পুরোপুরি পাকাপোক্ত করতে পারেননি।
এবার টটেনহামে নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। তাই পুরোনো নামেও ফিরে আসাটা হতে পারে নিজের সেরা সময়ের সেই পরিচয়ে ফিরে যাওয়ার এক ধরনের ইঙ্গিত। অর্থাৎ, ‘Savinho’ থেকে ‘Sávio’- এটি শুধু জার্সির নাম পরিবর্তন নয়, বরং হয়তো নতুন ক্লাবে নতুনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার প্রতীকী সিদ্ধান্ত।
টটেনহামে যোগ দেওয়ার পর সাভিওর অভিষেকের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে নাও হতে পারে। বুধবার কারাবাও কাপের ম্যাচে চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটিতে শেষ দুই মৌসুমে নিয়মিত একাদশে জায়গা না পাওয়া সাভিও এবার টটেনহামে নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে চাইবেন।
জিরোনায় যে খেলোয়াড়টি ১১ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছিলেন, টটেনহাম সমর্থকেরা এখন সেই সাভিওকেই দেখতে চাইবেন।
আর নতুন ক্লাবে তাঁর জার্সির পেছনে লেখা থাকবে একটি ছোট্ট নাম- Sávio। সেই নামের সঙ্গে হয়তো শুরু হবে তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন