বিজ্ঞাপন
তেহরানকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ মোকাবিলায় ইরানকে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপ থেকে আত্মরক্ষার অন্যতম উপায় হলো দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো এবং মার্কিন ডলারের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা।
ইরানের সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোজতবা খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, মূল্য ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য ও সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণসহ অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
এক্সবার্তায় তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, উৎপাদন বাড়ানো, মার্কিন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা এবং শেষ পর্যন্ত ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’কে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, আমদানি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া গেলে ইরানের অর্থনীতির ‘অন্ধকার দিকগুলো’ ধীরে ধীরে কমে একসময় পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরতা বাড়ানো।
এর আগে প্রায় এক সপ্তাহের আলোচনা ও হুঁশিয়ারির পর গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে বিশেষ অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযানের ঘোষণা দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। নতুন অভিযানের আওতায় নিষেধাজ্ঞার মাত্রা নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হবে। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কোনো দেশ ইরানকে সহযোগিতা করলে সেই দেশও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে মুক্তবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে যায়, যা দেশটির মুদ্রার ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়।
মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেজো ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বিমান হামলায় স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতনিসহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি ইরানের ইসলামপন্থি সরকারের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বিজ্ঞাপন