বিজ্ঞাপন
জয়পুরহাটের ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন সহকারী শিক্ষকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানেও পড়ছে প্রভাব- এমন অভিযোগ শিক্ষক ও অভিভাবকদের। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, প্রধান শিক্ষক না থাকলেও বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত নন্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক হিসেবে সাত জনের পদ থাকলেও একজন ভারপ্রাপ্ত ও তিনজন সহকারী শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদানের কার্যক্রম। সাতজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই সংকট। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।
‘অল্প কিছুদিনের মধ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে তখন আর সংকট থাকবে না। তবে যেসব স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত এসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে থাকি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা থেকে থাকে সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি শিক্ষক সংকট থাকলের পড়াশোনায় কিংবা প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে না।’
একই চিত্র সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এখানে প্রধান শিক্ষকসহ চয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক আছেন চারজন। দুইজন শিক্ষক সংকট। শুধু নন্দিতগ্রাম বা সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, এমন চিত্র জেলাজুড়ে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। কোথাও সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
‘আমরা চেষ্টা করছি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের ক্ষতি যেন না হয়। আমাদের যে জনবল আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা শিক্ষকরা একাধিক ক্লাস নিচ্ছি। তবে শিক্ষক নিয়োগ হলে এই সংকট আর থাকবে না।’
নন্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়া ও সুরভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এ কারণে মাঝেমধ্যে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আমরা চাই আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া হোক।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুলে শিক্ষক সংকটের কারণে ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। এ অবস্থায় আমরা অভিভাবকরা খুব চিন্তিত। শিক্ষক কম থাকায় একজন শিক্ষককে অনেক ক্লাস নিতে হয়। এতে বাচ্চাদের লেখাপড়ায় ঘাটতি থেকে যায়।
আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ২৪১ প্রাথমিক বিদ্যালয়
নন্দিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রাজু মিয়া বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক সংকট নিয়েই আমরা শতভাগ পড়াশোনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এ কারণে মাঝেমধ্যে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আমরা চাই আমাদের স্কুলে শিক্ষক দেওয়া হোক।’
আরও পড়ুন
পাবনায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৪ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়
সোঁনাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের ক্ষতি যেন না হয়। আমাদের যে জনবল আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা শিক্ষকরা একাধিক ক্লাস নিচ্ছি। তবে শিক্ষক নিয়োগ হলে এই সংকট আর থাকবে না।
আরও পড়ুন
নড়াইলে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়
জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেছের আলী বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে তখন আর সংকট থাকবে না। তবে যেসব স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলেও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত এসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে থাকি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা থেকে থাকে সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করি শিক্ষক সংকট থাকলের পড়াশোনায় কিংবা প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে না।
এনএইচআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন