বিজ্ঞাপন
গরমের দিনে স্বস্তির জন্য অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চালিয়ে রাখেন। এতে যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। তবে শুধু দীর্ঘ সময় এসি চালানোই সাধারণত বড় সমস্যা নয়। বরং এসির রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা, অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা এবং অপরিষ্কার ফিল্টারের মতো বিষয়গুলোই যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে বিদ্যুতের খরচও।
সারারাত এসি চালিয়ে ঘুমানো কি ঠিক?
রাতে দিনের তুলনায় বাইরের তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা কম থাকে। সূর্যের তাপ না থাকায় ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এসি-কে দিনের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয় না। ফলে শুধু সারারাত চালু থাকার কারণে এসি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।
তবে দীর্ঘ সময় এসি চালানোর ক্ষেত্রে যন্ত্রটি ঠিকঠাক অবস্থায় আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ এসি নিয়মিত চালালে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সময়ের ব্যবধান না দেখে যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের দিকেই বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
এসি থেকে বাষ্পের মতো ধোঁয়া বের হলে যা করবেন
ফিল্টার পরিষ্কার না করলে কী হয়?
এসির ভেতরের ফিল্টারে নিয়মিত ধুলো জমে। দীর্ঘদিন এটি পরিষ্কার না করলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। তখন কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা পেতে এসিকে বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়। এর ফলে কম্প্রেসারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং কুলিংয়ের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে ব্যবহার করলে এসির বিভিন্ন অংশের কর্মক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নিয়মিত সার্ভিসিং কেন দরকার?
শুধু এসি চালু হচ্ছে কি না দেখলেই যন্ত্র ভালো আছে, এমন নয়। দীর্ঘদিন ভালো পারফরম্যান্স পেতে নিয়মিত সার্ভিসিং গুরুত্বপূর্ণ। সার্ভিসিংয়ের সময় ফিল্টারসহ প্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করা যায় এবং এসির কুলিং ও এয়ারফ্লো ঠিক আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা সম্ভব। সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করলে যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করিয়ে ব্যবহার করলে কুলিং কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও বাড়তে পারে।
১৬ ডিগ্রিতে এসি চালানো কি ভালো?
ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে এই ধারণা থেকে অনেকেই এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন। কিন্তু সবসময় এত কম তাপমাত্রায় এসি চালানো প্রয়োজন নেই। খুব কম তাপমাত্রা বেছে নিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি করতে এসির কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় বেশি পরিশ্রম করতে হতে পারে। এর প্রভাব বিদ্যুৎ ব্যবহারে পড়তে পারে এবং মাসের শেষে বিলও বাড়তে পারে।
এসির তাপমাত্রা কত রাখবেন?
আরামদায়ক পরিবেশ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস একটি উপযুক্ত সেটিং হিসেবে ধরা হয়। এই তাপমাত্রায় ঘর আরামদায়ক রাখার পাশাপাশি এসির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপও কমানো যায়। অবশ্য ঘরের আকার, বাইরের আবহাওয়া, কতজন মানুষ অবস্থান করছেন এবং এসির ক্ষমতার ওপর প্রয়োজনীয় সেটিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
রাতে এসি চালালে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
সারারাত এসি চালানোর অভ্যাস থাকলে কয়েকটি বিষয়ে নিয়মিত নজর দেওয়া ভালো।
ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন: ধুলা জমে গেলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
সার্ভিসিং করান: দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করিয়ে এসি ব্যবহার করবেন না। নির্দিষ্ট সময় পর যন্ত্রটি পরীক্ষা করানো ভালো।
তাপমাত্রা অযথা কমাবেন না: খুব কম তাপমাত্রায় সেট না করে আরামদায়ক মাত্রায় এসি চালান।
এয়ারফ্লো পরীক্ষা করুন: এসি থেকে বাতাস ঠিকভাবে বের হচ্ছে কি না এবং ঘরের মধ্যে বাতাস চলাচলে কোনো বাধা রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন।
ওয়্যারিংয়ে নজর দিন: এসির বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্লাগ ও ওয়্যারিংয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎ বিল কমাতে এসি-ফ্রিজ ব্যবহারে যেসব ভুল করবেন না
তাই সারারাত এসি চালানোকে একমাত্র সমস্যা হিসেবে দেখার চেয়ে যন্ত্রটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্টার পরিষ্কার রাখা, সময়মতো সার্ভিসিং করা এবং অপ্রয়োজনে খুব কম তাপমাত্রা নির্ধারণ না করলে এসির কর্মক্ষমতা ভালো রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেএসকে
বিজ্ঞাপন