জাতীয়

খেলার সঙ্গে পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝাবে নাফীসের বই

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রকাশিত হয়েছে ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’ বই। বইটি লিখেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট অপরাশন্সের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস ও তার বন্ধু শিক্ষক আতিফ আকিফ। মূলত খেলার পাশাপাশি পড়ালেখার গুরুত্ব বোঝাতেই বইটি লেখা হয়েছে। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দুই লেখক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাফিসের শৈশবের কোচ ওয়াহিদুল গনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়, অ্যাথলেট, কোচ, শিক্ষাবিদ ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ভিত্তিতে বইটি তৈরি করা হয়েছে। বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নাফিস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ৩৫ থেকে ৩৭ জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। এরপর বিভিন্ন ধাপে সেই তথ্য সাজিয়ে বইটি প্রকাশের পর্যায়ে নিয়ে আসেন।  বইটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে নাফীস বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি, “পড়াশোনা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।” কিন্তু সেই ধারণাটাকে একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরা “পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।” সেখান থেকেই একাডেমি ও অ্যাথলেট এই দুই ক্ষেত্রকে কীভাবে এক জায়গায় আনা যায়, সেই ভাবনা থেকেই মূলত বইটি তৈরি করা। বইয়ের নামও রাখা হয়েছে ‘প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট’। এটিও ওই ধারণা থেকেই এসেছে —প্লে, স্টাডি, উইন দ্য রেস্ট।’ শুধু খেলাধুলার দিকে ঝুঁকে পড়াশোনায় পিছিয়ে না যাওয়ার বিষয়টিও বইটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান আরেক লেখক আতিফ। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, অন্তত এই প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরতে। আমাদের প্রজন্মের যারা খেলাধুলার সঙ্গে আসছে, তারা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না যায়। সবকিছু মিলিয়ে গত চার বছর ধরে এটা আমাদের ছোট্ট একটা চেষ্টা।’ শাহরিয়ার নাফীস জানান, বইটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। শুরুতে আইডিয়া তৈরি করা হয়, এরপর গবেষণাভিত্তিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আতিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাফিস বলেন, ‘প্রথমত আমি আতিফকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ সে আমাকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আমরা এই বইয়ের কাজ শুরু করেছিলাম ২০২২ সালে। ওই বছরই আমরা বইটি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পরিকল্পনা শুরু করি। এরপর বইটি মূলত একটি গবেষণাভিত্তিক বই।’ বইটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটার, ফুটবলার, কোচসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের গল্প রয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু মানুষের গল্পও রাখা হয়েছে, যারা একসময় সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বা ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাধুলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারেননি। তাদের জীবনে পড়াশোনা কীভাবে কাজে এসেছে, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। নাফীস বলেন, ‘আমরা যে কাজটা করার চেষ্টা করেছি সেটা হচ্ছে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ক্রীড়াবিদদের সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে জিজ্ঞেস করছি এই বইটা আপনারা যখন পড়বেন ইনশাল্লাহ তখন দেখবেন যে এই বইয়ের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ারও আছে ফুটবলার আছে ক্রিকেটার আছে কোচ আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক তেমনি এমন কিছু মানুষের গল্পও আছে, যারা অনেক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বা ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাধুলায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারেননি। তবে তাদের জীবনে পড়াশোনা কতটা কাজে এসেছে, সেই বিষয়টি তারা সুন্দরভাবে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন।’ সাড়ে তিন বছর ধরে তথ্য সংগ্রহের কথা জানিয়ে নাফীস বলেন, ‘আমরা গত তিন থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি। এটা এমন নয় যে যাকে পেলাম, তার তথ্য নিয়ে নিলাম। আমরা জানি, সবাই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩৫ জন অ্যাথলেটের তথ্য এখানে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যগুলোই গল্পের আকারে বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।’ বইটির জন্য যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ অ্যালান ডোনাল্ড, স্টুয়ার্ট ল এবং ২০০৪ সালের অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪০০ মিটারে সোনাজয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যানের অলিম্পিক কোচও।  নাফীস বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলেছি। যেমন অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, এ নিয়ে স্টুয়ার্ট লর সঙ্গেও কথা বলেছি। ২০০৪ সালের অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪০০ মিটারে সোনার পদকজয়ী ক্যাথি ফ্রিম্যানের অলিম্পিক কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ এর পেছনের উদ্দেশ্য ছিল, একজন খেলোয়াড় খেলাধুলায় প্রচুর সময় ব্যয় করলেও তার জীবনে পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা কতটা, সেটি তুলে ধরা,  ‘আপনাকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে না। তবে পড়াশোনা করলে যেটা হয়, আপনি খুব সহজভাবে চিন্তা করতে পারেন।’ এসকেডি/আইএন
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>