বিজ্ঞাপন
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যময় ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার এসএম শফিকুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলে থাকা মেয়েটির পরিচয় পাওয়া গেছে, পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে কথা হয়। শনিবার দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মেয়েটি এসে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
উপ-কমিশনার এসএম শফিকুর রহমান বলেন, তাদের যাত্রা শুরু হয় রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দিন থেকে, যাওয়ার কথা ছিল টঙ্গীতে। কিন্তু তারা টঙ্গী না গিয়ে মিরপুরে বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করেছে। ঘটনা প্রকাশের পর আমরা মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছি। আজকে মেয়েটি আমাদের কাছে এসেছিল এবং নিশ্চিত করেছে সে সুস্থ আছে। সেই দিনের ঘটনা ছিল একান্তই ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সমস্যার ফলে তৈরি হয়েছিল, এখন সে সুস্থ আছে। আমরা মেয়েটির দেওয়া বক্তব্য নিয়েছি। টঙ্গী এলাকায় মেয়েটির বোন থাকে, সেই বোনের জিম্মায় মেয়েটিকে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার এসএম শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, তারা আমাদের অঞ্চলের উপর দিয়ে গিয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। খবর পাওয়ার পর অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আমরা যে মোটরসাইকেলের নাম্বার পেয়েছি সেই সূত্র ধরে কাজ করেছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। একজন নারী বারে গিয়ে মদ পান করেন। তারা জানিয়েছেন, এখানে অন্য ধরনের কোনো ঘটনা নেই।
এর আগে, বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে, এয়ারপোর্ট থেকে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ওই মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা নয়।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
সন্দেহজনক এই দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি। পরে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটসহ স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ সিসিটিভি’র ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চালায়। রেজিস্ট্রেশনের অসংগতি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছিল। অবশেষে তাদের পরিচয় শনাক্তসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করে পুলিশ।
শিহাব খান/কেজে/এএসএম
বিজ্ঞাপন