জাতীয়

নয়াবাজারে ৭৩ টন ডুপ্লেক্স বোর্ডসহ ১০ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান জব্দ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকা থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন ডুপ্লেক্স বোর্ডসহ ১০টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর জানায়, এসব পণ্য খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ট্রাকগুলো নয়াবাজারে প্রবেশ করে। সেখানে পণ্যগুলো স্থানীয় আড়তে খালাস ও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১ এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র‍্যাব-১০, পুলিশের লালবাগ বিভাগসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সহযোগিতা করে। এনবিআর জানায়, নয়াবাজারমুখী ১০টি ট্রাকের বহর সিআইআইডির উপস্থিতি টের পেয়ে একটি ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নয়াবাজার এলাকায় আগে থেকে অবস্থান করা এবং পণ্য বিক্রির প্রস্তুতিতে থাকা আরও একটি ট্রাক শনাক্ত করে জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানস্থল থেকে ১০টি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত করে জব্দের চেষ্টা চলছে। সিআইআইডি জানায়, ভারতের মেহালি পেপারস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে খুলনার শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেডের নামে ডুপ্লেক্স বোর্ডগুলো আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্যগুলোর শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ছিল এম এ আজাদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং পরিবহনের দায়িত্বে ছিল ডেলটা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী এসব পণ্যবাহী ট্রাকের স্বাভাবিক বাইপাস রুট হলো: কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, পোস্তগোলা, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা। অন্যদিকে নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার ও তাঁতীবাজার খুলনাগামী স্বাভাবিক পরিবহন পথের বাইরে এবং বিপরীতমুখী ঘনবসতিপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যিক এলাকা। কাস্টমস গোয়েন্দার দাবি, নির্ধারিত রুট ছেড়ে বন্ডেড পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলোর নয়াবাজারে প্রবেশ গোপন সংবাদের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণ করে। সংস্থাটি আরও জানায়, যে আড়তে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাগজ বিক্রির চেষ্টা চলছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কারখানা বা গুদামে নিয়ে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া এসব পণ্য অন্য কোনো গুদাম বা আড়তে নেওয়া, খোলাবাজারে বিক্রি বা হস্তান্তর কিংবা অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমের বাইরে ব্যবহার করা হলে তা বন্ড সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এনবিআর জানায়, জব্দ করা ট্রাক ও পণ্য নিয়ে সিআইআইডি এরই মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে ট্রাকগুলোর নিবন্ধন ও মালিকানা, পণ্যের পরিমাণ ও প্যাকেজ সংখ্যা, কনটেইনার ও পরিবহন সিলের অখণ্ডতা, বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, পরিবহন চালান, বন্ড লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকগুলো কখন ছাড়ে ও ঢাকায় কখন পৌঁছায়, নয়াবাজারের কোন আড়ত বা ব্যবসায়ীর কাছে পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহনকারীর ভূমিকা এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর আগে বন্ডেড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং ঘটনায় সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা হবে। কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, জব্দ পণ্য ও ট্রাকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত, পণ্যের পরিমাণ নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, গন্তব্য পরিবর্তন, অবৈধভাবে পণ্য খালাস বা খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি শনাক্ত ও জব্দ, সম্ভাব্য ক্রেতা ও আড়তদারদের চিহ্নিত এবং এ ঘটনায় জড়িত পুরো চক্র উদ্ঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এসএম/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>