ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

যেভাবে বুঝবেন আপনি ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট মানুষ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কেউ খুব সুন্দর করে কথা বলেন, হাসিমুখে সবার সঙ্গে মিশে থাকেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং নিজের কর্মক্ষেত্রেও সফল। বাইরে থেকে দেখলে তাকে যথেষ্ট পরিণত বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু সামান্য কোনো কথায় যদি হঠাৎ প্রচণ্ড রেগে গিয়ে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যান, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে-তিনি আসলে কতটা আবেগীয়ভাবে পরিণত? আবার এমন মানুষও রয়েছেন, যারা রাগেন, কষ্ট পান কিংবা সমালোচনায় আহত হন। কিন্তু আবেগের প্রথম ধাক্কাতেই প্রতিক্রিয়া দেখান না। কিছুটা সময় নেন, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন, তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন। এখানেই তৈরি হয় পার্থক্য। রাগের সময় নিজেকে সামলানোই আসল দক্ষতা দুই ধরনের মানুষের পার্থক্যটা যেখানে শুধু ইকিউ বা বুদ্ধিমত্তায় নয়। পার্থক্যটা অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (ইকিউ) বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায়। এই পার্থক্যকে অনেক সময় বোঝানো হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। এটি শুধু নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয়, বরং নিজের আবেগকে চিনতে পারা, অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের আচরণ সামঞ্জস্য করার ক্ষমতাও এর অংশ। একজন মানুষের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বোঝার সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো তার কঠিন সময়ের আচরণ। রাগের সময় নিজেকে থামাতে পারেন রাগ হওয়া স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। তাই কখনো রাগ না করাই আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ নয়। বরং রাগের মুহূর্তে একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কষ্টদায়ক কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ না করে কিছুটা সময় নেওয়া, পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং পরে নিজের বক্তব্য জানানো আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভালো লক্ষণ হতে পারে। প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে একটু থামা অনেক সংঘাত এড়াতে পারে নিজের ভুল মেনে নিতে দ্বিধা করেন না ভুল স্বীকার করা অনেকের কাছেই কঠিন। নিজের অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করতে গিয়ে কেউ কেউ অজুহাত খোঁজেন বা অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে দেন। বিপরীতে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মানুষ প্রয়োজন হলে বলতে পারেন, ‘আমি ভুল করেছি।’ শুধু ক্ষমা চাওয়াই নয়, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে কীভাবে ভালো আচরণ করা যায়, সেটিও তিনি ভাবেন। অনুমান নয়, বোঝার চেষ্টা করেন কেউ হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেই ‘সে আমাকে অপছন্দ করে’-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া সহজ। কিন্তু ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষ সাধারণত দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি ভাবতে পারেন, অন্য ব্যক্তির হয়তো কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা আছে, মন খারাপ হতে পারে বা অন্য কোনো কারণে সে চুপ রয়েছে। অন্যের অনুভূতির জায়গাটি বোঝার এই চেষ্টা সহমর্মিতার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। সমালোচনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন না কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে প্রথম প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটিও অনেক কিছু বলে দেয়। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা অভিযোগ করা সহজ। কিন্তু সমালোচনার মধ্যে সত্যতা আছে কি না, একটু থেমে তা যাচাই করা বেশি পরিণত আচরণ। সব সমালোচনাই যে সঠিক, তা নয়। তবে গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করার মানসিকতা ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হতে পারে। মতের অমিলকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বানান না দুজন মানুষের চিন্তা, পছন্দ কিংবা মত এক হবে- এমন কোনো নিয়ম নেই। তাই মতের পার্থক্য হলেই সম্পর্ক নষ্ট করা বা ব্যক্তিগত আক্রমণে যাওয়া প্রয়োজন নেই। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মানুষ নিজের মতের জায়গায় দৃঢ় থেকেও অন্যের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেন। তিনি বুঝতে পারেন, দ্বিমত থাকা মানেই সম্পর্কের শত্রুতা নয়। আবেগকে অস্বীকার করেন না ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের অর্থ আবেগহীন হয়ে যাওয়া নয়। কষ্ট, ভয়, রাগ, হতাশা কিংবা কান্না-সবই মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিণত মানুষ নিজের অনুভূতিকে চেপে রাখার বদলে সেটিকে চিনতে চেষ্টা করেন। প্রয়োজন হলে কথা বলেন, কিছুটা সময় নেন এবং আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকেন, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে পারেন। ক্ষমতা থাকলেও অন্যকে ছোট করেন না একজন মানুষ নিজের চেয়ে কম ক্ষমতাসম্পন্ন বা অধস্তন ব্যক্তির সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন, সেখানেও তার মানসিক পরিপক্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। কাজের জায়গায় ক্ষমতা থাকা, সামাজিক অবস্থান বা আর্থিক সামর্থ্য-কোনোটিই অন্যকে অপমান করার অধিকার দেয় না। বরং সম্মানজনক আচরণ, ধৈর্য এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সচেতনতা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। আরও পড়ুন কর্মজীবী নারীরা মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যা করবেন কঠিন সময়েই আসল পরীক্ষা শান্ত পরিস্থিতিতে ভদ্র ও সংযত থাকা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হওয়া, অপমানিত লাগা, রাগ, ব্যর্থতা কিংবা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন মানুষ নিজেকে কীভাবে সামলান, সেখানেই তার আবেগীয় পরিপক্বতার বড় পরীক্ষা হয়। আরও পড়ুন বিপদে মানুষকে সাহায্য না করে অনেকে ভিডিও কেন করেন কারণ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স মানে আবেগকে মুছে ফেলা নয়। বরং আবেগ থাকা সত্ত্বেও নিজের আচরণের দায়িত্ব নিতে পারা। তাই একজন মানুষকে বিচার করতে তার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তের চেয়ে বরং সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তিনি নিজেকে কীভাবে সামলান, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সাইকোলজিটুডে, মিডিয়াম, টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই  
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>