ব্রেকিং নিউজ
মক্কা চুক্তি কি মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দিচ্ছে? নোয়াখালী ডিবেটিং সোসাইটির বক্তব্য প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে: সংসদে বিমানমন্ত্রী রোমান টেলিস্কোপে মহাকাশের যে ১০ রহস্যের উন্মোচন হবে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ জানা গেল খাদ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: খাদ্যমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে কিশোরগঞ্জে কুইজ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি Duleep Trophy 2026: বল হাতে ফাস্ট বোলারদের দাপট, দলীপের সেমিফাইনালে মধ্যাঞ্চলকে ২৬৬ রানেই গুটিয়ে দিল পূর্বাঞ্চল ‘ইলিয়াস আলী গুম, ইলিয়াস আলী গুম’ শুনতে শুনতেই পরীক্ষার হলে যায় ছেলে
জাতীয়

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায় না আইসল্যান্ডের জনগণ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের বিষয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে আইসল্যান্ডের জনগণ। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভির (আইউভি) প্রকাশিত ভোটের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ইইউতে যোগদানের আলোচনা শুরুর পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। রোববার (৩০ আগস্ট) ভোট গণনার সময় আরইউভির অনলাইন ফলাফলে এ তথ্য দেখা যায়। তখন দেশটির ছয়টি ভোটকেন্দ্রিক জেলার মধ্যে একটি জেলার সামান্য কিছু ব্যালট গণনা বাকি ছিল। তবে ওই জেলাতেও ‘না’ ভোটের প্রবণতা থাকায় শেষ মুহূর্তে ফল পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আরইউভি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘দেশটি ইইউর সঙ্গে যোগদানের আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।’ ফলাফল বড় ধরনের পরিবর্তন না হলে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও একটি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্রাসেলস দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধ আইসল্যান্ডকে জোটের নতুন সদস্য হিসেবে পেতে আগ্রহী ছিল। দেশটিকে ইইউতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যেসব জটিল বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়েও সমঝোতার আগ্রহ দেখিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আইসল্যান্ডের সরকার অবশ্য ইইউ সদস্যপদের বিষয়টিকে ‘এখন না হলে আর কখনো নয়’ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্তাদোত্তির গত আগস্টে ভোটারদের উদ্দেশে বলেছিলেন, প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হলে ইইউতে যোগ দেওয়া নিয়ে সব ধরনের জল্পনার অবসান ঘটবে। গণভোটের ফল প্রকাশের পর রোববার আরইউভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেন এই ভোটের ফল দেশের জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে না। গণভোটের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে ইইউর সঙ্গে আলোচনার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলাফল নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ক্রিস্তুন বলেন, তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত হিসেবে দেখছেন না। কিছু মানুষ ফলাফলে হতবাক হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি দেখেছেন, তারা ভিন্ন ভিন্ন ফলাফলকে গ্রহণ করার বিষয়ে যথেষ্ট খোলামেলা। তবে ইইউতে যোগ দেওয়া নিয়ে আইসল্যান্ডের মানুষের উদ্বেগও কম নয়। বিশেষ করে দেশটির গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রী এসব উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকার ভবিষ্যতে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় রাখবে। ইইউতে যোগদানের পক্ষে থাকা প্রচারকারীদের যুক্তি ছিল, সদস্যপদ আইসল্যান্ডে উচ্চ সুদের হার কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইইউর সদস্য হওয়া দেশটিকে আরও নিরাপত্তা দিতে পারে বলেও তারা মনে করেন। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলের আরেক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ইইউতে যোগদানের বিরোধীরা মনে করেন, সদস্যপদ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব মাছ ধরার জলসীমার ওপর হুমকি তৈরি করতে পারে। এসব বিষয়ই ‘না’ শিবিরের প্রচারের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল। আইসল্যান্ডের ইইউ সদস্যপদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় দেশটির ছোট ও বহির্বিশ্বের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়লে আইসল্যান্ড প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিল। এরপর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০১৩ সালে ইউরোসেপ্টিক বা ইইউ-সংশয়বাদী একটি সরকার সেই আলোচনা বন্ধ করে দেয়। এরপর কয়েক বছর ধরে ইইউ সদস্যপদের বিষয়টি আইসল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে ওঠানামা করেছে। তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিষয়টিকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কসহ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা আইসল্যান্ডের জনগণের মধ্যে ইইউ সদস্যপদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি করে। সর্বশেষ গণভোটে ‘না’ ভোট এগিয়ে থাকায় আপাতত ইইউতে যোগদানের আলোচনা শুরুর প্রস্তাব থেমে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটের ফল আইসল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেও নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। সরকার যেখানে ইইউর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিল, সেখানে বিরোধীরা দেশের সার্বভৌমত্ব, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আইসল্যান্ডের মতো ছোট কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িত। ফলে গণভোটের এই ফল দেশটির দীর্ঘদিনের ইইউ বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>