বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের চলমান সান্ধ্য আইনবিরোধী আন্দোলন নিয়ে উপাচার্য ও প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে সংগঠনটি ‘ক্যাম্পাস পুলিশিং টিম’ গঠনের উদ্যোগ বাতিল করে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি সামি আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন তাদের স্বাধীন চলাচল, স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তার অধিকারকে খর্ব করছে। ক্যাম্পাসকে নারীবান্ধব করার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সংগঠনটি।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং রতনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী দাবি করে, ‘মেয়েদের রাতে বাইরে বের হওয়া স্বাভাবিক নয়’—এ ধরনের বক্তব্য নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রকাশ। একইভাবে, সান্ধ্য আইন নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের বক্তব্যও নারী শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাচলের অধিকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
আরও পড়ুন
ঢাবির নারী হলে প্রবেশের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সুপারিশ
বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসকদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা নয়, বরং সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নামে ‘ক্যাম্পাস পুলিশিং টিম’ গঠন করা হলে তা তাদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সংগঠনটি জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে নারী শিক্ষার্থীরা সান্ধ্য আইন বাতিল, অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সুযোগ এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনের হলে প্রবেশের অনুমতি—এই তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এসব দাবির পক্ষে এক হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা বলেন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়। বরং শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে উপাচার্য ও প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহার, ‘অবরোধবাসিনী’র তিন দফা দাবি মেনে নেওয়া এবং ‘ক্যাম্পাস পুলিশিং টিম’ গঠনের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণের রূপরেখা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরটি/একিউএফ
বিজ্ঞাপন