বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার দায়ের করা নাশকতা মামলায় বিএনপি, যুবদল ও এনসিপির নেতাকর্মীদের আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলায় জুলাই যোদ্ধা, সাবেক চেয়ারম্যান, বিএনপি ও যুবদলের নেতা, এনসিপির নেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট তাড়াইল ও করিমগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী রাইজানী ব্রিজ এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট তাড়াইল উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেন বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় মামলা করেন।
মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মবিন, উপজেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম পারভেজ এবং ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আলমসহ অনেকে আসামি হয়েছেন।
মামলার ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে জুলাই যোদ্ধা মো. ওমর খান সানিকে। ১০ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান মবিন, ২৮ নম্বর আসামি রুবেল ভূঁইয়া, ৩৩ নম্বর আসামি আকরাম পারভেজ এবং ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে আলমকে।
মামলায় আসামি হওয়া যুবদল নেতা আকরাম পারভেজের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি যুবদলের নেতা হয়েও নাশকতার মামলার আসামি হলাম কীভাবে? আমি তাদের গ্রুপের রাজনীতি করি না বলেই আমাকে আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন বিপ্লবও মামলায় দলীয় গ্রুপিংয়ের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিষয়টি জেলা যুবদল ও জেলা বিএনপির নেতাদের জানানো হয়েছে এবং তিনি দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তাড়াইল উপজেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ভূঁইয়া বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। বর্তমানে আমি এনসিপির রাজনীতি করি। তারপরও মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটি প্রত্যাহার করতে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেনের অভিযোগ, তাড়াইলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি মহল হয়রানি করছে। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকা বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও ছাত্রদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে। দ্রুতই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি তার।
তবে মামলার বাদী তাড়াইল উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তাড়াইল থানার সেকেন্ড অফিসার ফুরকান জানান, মামলাটি এরইমধ্যে এফআইআর হয়েছে। কারা কীভাবে আসামি হয়েছেন, সে বিষয়ে বাদীই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
এসকে রাসেল/এফএ/এএসএম
বিজ্ঞাপন