ব্রেকিং নিউজ
জেরায় সময় অপচয় করার অভিযোগ প্রসিকিউশনের ভূমি অফিসে হয়রানি-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করল ‘টাইম’ বক্স খাটের ড্রয়ারে ১৯০ পিস ইয়াবা,পকেটে এস্কাফ-গাঁজা: নড়াইলে যুবক গ্রেফতার টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিষ্টি উৎসব জেরার সময় অপচয় করার অভিযোগ প্রসিকিউশনের বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাবিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ Indian Cricket Team: ভারত-আফগানিস্তান সিরিজ়ের দল ঘোষণার পরেই তারকা অলরাউন্ডারের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে দামি গাড়ি আমদানি পাকিস্তান দলের গণছাঁটাই, কোচসহ বিদায় ৭ ক্রিকেটার
জাতীয়

অন্দরের প্রভাবে বয়স বাড়ছে না তো, জেনে নিন কোথায় হচ্ছে ভুলগুলো

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

তারুণ্য ধরে রাখতে হলে চাই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। অন্দরের প্রভাবেও যে আগেভাগেই বয়সের ছাপ পড়তে পারে, সেটাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি তাসনিম তূর্যি এবং স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

গোছানো, পরিপাটি অন্দরে মেলে প্রশান্তি। অন্যদিকে ঘর অগোছালো থাকলে কাজের জিনিস খুঁজতে গিয়েই বাড়তে পারে মানসিক চাপ। প্রাণবন্ত অন্দরে মন প্রফুল্ল হয়ে উঠতে পারে। আবার অন্দরের এলোমেলো বা বিষণ্ন রূপের ছায়াও মনে পড়ে।

অন্দরের আলো, বাতাস, শব্দ, দেয়াল, আসবাব কিংবা অন্দরসজ্জার অনুষঙ্গ—সবই প্রভাব ফেলতে পারে মনের ওপর।

চাই আলো, চাই আঁধার

প্রাকৃতিক আলো মনের জন্য ইতিবাচক। ঘরে যতটা সম্ভব আলো আসার সুযোগ করে দিন। প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত আলো না থাকলে কিংবা সব সময়ই কৃত্রিম আলোয় থাকলে মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আলোর অবস্থানটাও ঠিক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আলো যদি এমন জায়গায় থাকে যে বসলে বা শুলেই চোখে লাগে, তাহলে স্বস্তি পাবেন না। কাজের সময় যেমন ঠিকঠাক আলো থাকতে হবে, তেমনি বিশ্রামের সময় চাই আঁধার। আবার যখন আলো-আঁধারি চান, তখন ব্যবহার করতে পারেন ল্যাম্পশেড।

অন্দরের প্রভাবে বয়স বাড়ছে না তো
প্রাকৃতিক আলো মনের জন্য ইতিবাচক

বাতাস আর শব্দের কাঁপন

প্রাকৃতিক হাওয়ার স্পর্শ আপনাকে উৎফুল্ল করবে। শব্দও অন্দরের বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রশান্ত প্রাকৃতিক শব্দ মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক, বিকট শব্দে আবার মানসিক অশান্তি বাড়ে।

কৃত্রিম ঝরনা কিংবা উইন্ডচাইমের শব্দেও অন্দরের পরিবেশ হয়ে ওঠে দারুণ। প্রযুক্তির সহায়তায়ও বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক কিংবা মৃদু ও ধীরগতির কোনো শব্দ চালিয়ে নিতে পারেন। শহুরে নির্মাণকাজ কিংবা যানবাহনের বিকট শব্দের মধ্যে থাকতে হলে আবার মুশকিল। এ ধরনের শব্দ অন্দরের পরিবেশকে নেতিবাচক করে তুলতে পারে। এমন ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা কমাতে জানালা ঠিকঠাক বন্ধ রাখা জরুরি। তবে সে ক্ষেত্রে আবার ওই সময়টায় খোলা বাতাস থেকে বঞ্চিত হবেন।

রঙে, ঘ্রাণে, উষ্ণতায়

অন্দরে সাদা, চাঁপা সাদা, সি গ্রিন, বেজ বা পিচ রঙের মতো হালকা রঙের ব্যবহারে স্বস্তি মেলে। তবে একঘেয়েও যেন না দেখায়, সেটিও খেয়াল রাখুন। কোথাও কোথাও উজ্জ্বল রঙের সমন্বয় করলে প্রাণবন্ত দেখায়। গরমের সময় হালকা রঙের অনুষঙ্গে প্রশান্তি পাবেন, শীত মৌসুমে উষ্ণতা পাবেন উজ্জ্বল, উষ্ণ রঙে। সুঘ্রাণে মন প্রশান্ত হয়। কাঠগোলাপ, বেলি, দোলনচাঁপা কিংবা অন্য কোনো সুগন্ধি ফুল রাখতে পারেন ঘরে। প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি সুগন্ধি মোমও কাজে আসে। শীত মৌসুমে অন্দরে আরামদায়ক উষ্ণতা থাকলে মনেও স্বস্তি পাবেন। এ সময় মেঝেতে শতরঞ্জি ও পুরু পাপোশ বিছিয়ে দিতে পারেন। পশমি অনুষঙ্গ কাজে লাগাতে পারেন। আসবাবে ছড়িয়ে রাখতে পারেন বাড়তি কোনো কাপড় (থ্রো), যা প্রয়োজনে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া যায়। পুরু পর্দাও প্রয়োজন।

অন্দরের প্রভাবে বয়স বাড়ছে না তো
অন্দরে সাদা, চাঁপা সাদা, বেজ বা পিচ রঙের মতো হালকা রঙের ব্যবহারে স্বস্তি মেলে

প্রকৃতির আরও পরশ

অন্দরের উপযোগী গাছ রাখতে পারেন। বারান্দায় রাখতে পারেন অন্যান্য গাছ। সমুদ্রসৈকত থেকে কুড়িয়ে আনা ঝিনুক বা শামুকের খোল সাজিয়ে রাখতে পারেন অন্দরে। মাটি, বাঁশ, বেত প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপকরণেও প্রশান্তি মিলতে পারে। গরমের সময় মাটির পাত্রে পানি নিয়ে তাতে কিছু ফুলের পাপড়ি ছড়িয়েও রাখতে পারেন।

ভালোবাসায় গড়া ছিমছাম অন্দর

অন্দর ছোট হতে পারে। সেখানে অনেক কিছুর অভাব থাকতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, ভালোবাসার যেন কমতি না হয়। অন্দরসজ্জা বিষয়ে পরিবারের সবার স্বস্তি এবং পছন্দ-অপছন্দের কথা মাথায় রাখুন। ব্যক্তিগত পরিসরকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে বাধা দেবেন না। কারও কাছে নানির আমলের পানের বাটা একটা সুন্দর স্মৃতি। কেউ হয়তো মহানন্দার পাড় থেকে তাঁর প্রিয় মানুষের কুড়িয়ে আনা একখানা পাথরের মধ্যে সুখ খুঁজে পান। কেউ আবার বাঁধিয়ে রাখতে চান ঘুরতে গিয়ে এঁকে ফেলা একটা ছবি। কিংবা নিজেদের ফটোগ্রাফ। পরিবারের কেউ এমন স্মৃতিময় কোনো অনুষঙ্গ অন্দরে রাখতে চাইলে সেই ব্যবস্থা করে দিন। তাঁর মন ভালো থাকবে।

অন্দরের প্রভাবে বয়স বাড়ছে না তো
সকালে বিছানা গুছিয়ে বের হোন

আসবাব ও অনুষঙ্গের বাহুল্য এড়িয়ে চলুন। জায়গা কম থাকলে মাল্টিফাংশনাল আসবাব কাজে লাগাতে পারেন। যেটা যেখানে থাকার কথা, সেখানেই রাখুন। তাড়াহুড়ার সময় একটা চাবি, চার্জার বা সুতার রিল খুঁজতে গিয়ে যেন চাপে না পড়তে হয়।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন। সময়মতো গুছিয়ে রাখুন ঘরদোর। সকালে বিছানা বা ঘর এলোমেলো রেখে বাইরে না যাওয়াই ভালো। সারা দিনের কাজ শেষে ক্লান্ত অবস্থায় ফেরার পর ঘর গোছাতে চাপ অনুভব করতে পারেন। মনে রাখবেন, পরিপাটি, ছিমছাম অন্দরে বাস করাও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অংশ।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>