বিজ্ঞাপন
তনুশ্রী গাইন প্রিয়াঙ্কা
আজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এ উৎসব উদযাপিত হয়। হিন্দু পুরাণ মতে, এই তিথির মধ্যরাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সনাতনী সমাজে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ঘিরে থাকে উৎসবের আমেজ। শহর, মহল্লা কিংবা গ্রাম। তবে গ্রামে থাকে জন্মাষ্টমী উৎসবের কিছুটা ভিন্ন আয়োজন।
গৃহবধূদের ব্যস্ততা
সনাতনী পরিবারে জন্মাষ্টমী উৎসব ঘিরে গৃহবধূদের ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। সকালে উঠে স্নান সেরে পুজোর সামগ্রী প্রস্তুত থেকে শুরু করে ঠাকুর ঘরের সাজসজ্জা নিয়ে তাদের ব্যস্ত সময় কাটে। গোপাল ঠাকুরের প্রিয় ফুল, তালের পিঠা, সন্দেশ কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে শুরু করে ভোগের জন্য ফল ইত্যাদি মিলিয়ে বাহারি আয়োজন করা হয়।
গোপালের স্নান
জন্মাষ্টমীতে গোপাল ঠাকুরের স্নান বা অভিষেক মূলত পঞ্চামৃত ও গঙ্গাজল দিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করা হয়। পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনি) দিয়ে গঙ্গাজল এবং সাধারণ শুদ্ধ জলের সমন্বয়ে গোপাল ঠাকুরকে স্নান করানো হয়। সাথে যোগ করা হয় ফুল ও তুলসি। স্নানমন্ত্র পাঠের সহায়তায় সম্পূর্ণ করা হয় গোপাল ঠাকুরের স্নানযাত্রা।
আরও পড়ুন
শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে শুনি ধর্মবাণী
গোপালের সাজসজ্জা
জন্মাষ্টমীতে গোপালকে নতুন ধুতি, কুর্তা বা পশমের ওড়না পরানোই রীতি। তবে হলুদ, সাদা, গোলাপি কিংবা হালকা নীল রং শুভ বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে। মাথায় মুকুট, হাতে বাঁশি এবং পায়ে মল বা নূপুরের সমন্বয়ে পুজোর জন্য তৈরি হয় গোপাল ঠাকুর।
সংগীতায়োজন
গ্রাম্যসমাজের গৃহবধূরা উলুধ্বনির মাধ্যমে সংগীত অনুষ্ঠান শুরু করেন। প্রথমদিকে গীতাপাঠ করা হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে গোপাল ঠাকুরের গুণকীর্তন, অষ্টশত নাম এবং পরিশেষে ভোজন আরতী দিয়ে শেষ করা হয় এই উৎসব।
আরও পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ
প্রসাদপর্ব
প্রসাদ গ্রহণের জন্য গ্রাম্যসমাজের সনাতনীরা সারিবদ্ধ হয়ে বসে পড়েন। তারপর আয়োজনকারীরা প্রথমে ভোগের প্রসাদ (পঞ্চফল, পঞ্চমিষ্টি, তালের পিঠা) ভক্তদের দিয়ে থাকেন। তারপর পর্যায়ক্রমে ঝোল খিচুড়ি (সাথে আলু ভাজি, বেগুন ভাজি), খাঁটি গরুর দুধের পায়েস এবং সর্বশেষ দই দিয়ে প্রসাদের কার্য সম্পন্ন করা হয়।
জন্মাষ্টমী উৎসবে সবকিছুর মূলে থাকে গোবিন্দের প্রতি ভক্তি এবং শ্রদ্ধা। ভক্তি, জল, ফুল এবং তুলসি দিয়ে পুজো করলেই গোবিন্দ সন্তুষ্ট হন। তবুও ভক্তের শ্রদ্ধার সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজন উৎসবকে আরও মুখর করে তোলে।
লেখক: মাস্টার্স, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল।
এসইউ
বিজ্ঞাপন