বিজ্ঞাপন
গানকে জীবনের সঙ্গী করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এগিয়ে চলেছেন সংগীতশিল্পী তামিম ইসলাম। ছোটবেলার গানের চর্চা থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের তালিম, ছায়ানটে নজরুলসংগীতে প্রফেশনাল কোর্স করে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছেন একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে। ২০১৪ সালে মৌলিক গান ‘কেন’ দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন ৭০টিরও বেশি মৌলিক গান। কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি সুর ও সংগীত পরিচালনাতেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। গানের আঙ্গিনায় অনেক স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছেন গায়ক তামিম-
আপনার গানের শুরুর গল্পটা জানতে চাইযদিও আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, আমার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধানমন্ডিতে। ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়ার অভ্যাস ছিল। পরবর্তীতে গানের শিক্ষকের কাছে দীর্ঘদিন তালিম নিয়েছি। এরপর ছায়ানট থেকে নজরুলসংগীতে প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করি। সেখান থেকেই সংগীতকে জীবনপথ হিসেবে বেছে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
ক্রিকেটার তাসকিনের সেলফিতে শাবনূর, হলো আড্ডা-পার্টিও
গান করার প্রথম অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পেয়েছেন?নিঃসন্দেহে আমার মা। অসংখ্য বাধা পেরিয়ে তিনিই আমাকে আজকের এই পথ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও শক্তির নাম আমার মা।
আপনার প্রথম গান ও প্রথম অ্যালবাম সম্পর্কে বলুন-আমার প্রথম মৌলিক গান ‘কেন’। ২০১৪ সালে সঙ্গীতা অডিওর একটি মিক্সড অ্যালবামে গানটি প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৭ সালে সিডি চয়েস মিউজিক থেকে আমার প্রথম একক অ্যালবাম ‘তামিম’ প্রকাশিত হয়।
এখন পর্যন্ত আপনার কতগুলো মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে?আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন অডিও কোম্পানির ব্যানারে এখন পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘ইশারায়’, ‘তুই আমার’, ‘নিস্তব্ধতা’, ‘উড়ু উড়ু মন’, ‘কেন’, ‘মিশে আছি দুজনেই’, ‘বৃষ্টি ঝড়ে’ এবং ‘লড়ে যাও বাংলাদেশ’।
গান গাওয়ার পাশাপাশি আপনি নিজেই সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন। কোন কাজ বা পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেন?আমি গানের মানুষ- এটাকেই খুব ইতিবাচকভাবে দেখি। একজন কণ্ঠশিল্পী যখন নিজেই সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন, তখন তাকে আরও বেশি সৃজনশীল, ধৈর্যশীল এবং একই সঙ্গে সৎ ও বিনয়ী হতে হয়। এই চর্চা একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে।
বর্তমানে কী নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে?আমার ক্যারিয়ারে অনেক দ্বৈত গান করার সুযোগ হয়েছে। দেশের জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের মধ্যে রয়েছেন কনা, অবন্তী সিথী, নিশ্চুপ বৃষ্টি, ঝিলিক, নদী, আতিয়া আনিসা, সেনিজ, ইয়াসমিন লাবণ্যসহ আরও অনেকে। সামনেও কয়েকটি দ্বৈত গান প্রকাশ পাবে। অবন্তী সিথীর সঙ্গে ‘প্রিয় কবিতা’, আদিবার সঙ্গে ‘ভাঙা মন’ এবং মিলানার সঙ্গে ‘ও তুই তুই রে’ গানগুলো সামনে আসছে। এ ছাড়া আমার কথা, সুর ও সংগীতে প্রথম হিন্দি গানও মুক্তি পাবে। গানটির একটি বাংলা সংস্করণও রয়েছে। পাশাপাশি কিছু একক গান নিয়েও কাজ করছি।
গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছি। তাই গান ও শিক্ষকতা- এই দুই কাজ নিয়েই আমার প্রতিদিনের ব্যস্ততা কাটছে।
বর্তমানে কোন শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের কাজ আপনার বেশি ভালো লাগে?এখন প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। অনেকেই অসাধারণ কাজ করছেন। বিশেষভাবে ইমরান মাহমুদুল, অয়ন চাকলাদার, প্রীতম হাসান ও সঞ্জয় দেবের কাজ আমার ভালো লাগে। নতুনদের মধ্যে মাহতিম সাকিব, এঞ্জেল নূর ও ঈশান মজুমদারের কণ্ঠ আমাকে মুগ্ধ করে। আর ব্যক্তিগত পছন্দের শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন অবন্তী সিথী, নিশ্চুপ বৃষ্টি, মারুফা তৃষা, আদিবা, সাজিদ মোহাম্মদ ও রাজ বর্মণ।
আরও পড়ুন
ক্রিকেটার তাসকিনের সেলফিতে শাবনূর, হলো আড্ডা-পার্টিও
গান নিয়ে নিজেকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে একটি স্বপ্ন সবসময়ই আছে। সেটি হলো ফিল্মে প্লেব্যাক করা এবং নিজেকে একজন প্লেব্যাক আর্টিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। পাশাপাশি কলকাতা ও ভারতের জনপ্রিয় কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে। আশা করি, দ্রুতই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে।
আমি যতদিন পারি সততার সঙ্গে গান করে যেতে চাই। কারণ গানটাই আমার প্রশান্তির ঠিকানা।
এলআইএ
বিজ্ঞাপন