বিজ্ঞাপন
একসময় হারিকেন ছিল মানুষের নিত্যদিনের জীবনের অংশ। বিদ্যুতের আলো সর্বত্র পৌঁছানোর আগে সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত হারিকেন। সময়ের সঙ্গে সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি এখনও মনে রেখেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। এবার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মৌসুমীর সঙ্গে হারিকেন হাতে ছবি প্রকাশ করে ফিরে গেলেন সেই স্মৃতির দিনগুলোতে।
৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মৌসুমীর সঙ্গে হারিকেন হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন ওমর সানী। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এক সময় হারিকেন ছাড়া চলতোই না মাঝখানে চলে গেছে বহু বছর। গত পাঁচ বছরে হারিকেনের প্রচলনটা বেড়েছে এবং এখন তীব্র। ভাবি ১৯৬৭ সাল আমার জন্ম সালে।’
তার এই স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে হারিকেনকে ঘিরে পুরোনো দিনের স্মৃতি। একসময় মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা হারিকেন সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে গেলেও এখনো সেটি নস্টালজিয়ার অংশ হয়ে আছে। নিজের জন্মসালের কথা উল্লেখ করে সেই সময়ের স্মৃতিই যেন মনে করলেন এই অভিনেতা।
তবে ওমর সানীর সাম্প্রতিক পোস্ট শুধু হারিকেনের স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঢাকাই সিনেমার সোনালি সময়ের স্মৃতিও। একই পোস্টে তিনি শেয়ার করেছেন ‘আখেরী রাস্তা’ সিনেমার পোস্টার। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় অ্যাকশন নায়ক রুবেল।
নব্বই দশকে রুবেল অভিনীত সিনেমাগুলো ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। সেই সময়ের জনপ্রিয়তার কথা স্মরণ করে ওমর সানী লেখেন, ‘রুবেল ভাই বলতেই তখন তিনদিন হাউজফুল, আর আমি সেটা আপনারা জানতেন।’
স্ট্যাটাসের সঙ্গে সিনেমাটির পরিচালক হিসেবে সোহানুর রহমান সোহানের নাম উল্লেখ করেন ওমর সানী। পাশাপাশি একসময়কার বেশ কয়েকটি সিনেমা হলের নামও তুলে ধরেন তিনি। তালিকায় রয়েছে অভিসার, গীত, ডেমরার রাণীমহল, টাঙ্গাইলের মালঞ্চ, আলমডাঙ্গার জনি, নরসিংদীর মিতালি এবং ময়মনসিংহের অলকা হল।
আক্ষেপের বিষয়, ওমর সানীর দেওয়া তালিকায় থাকা সব সিনেমা হলই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একসময় এসব প্রেক্ষাগৃহে জনপ্রিয় সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। কোনো কোনো সিনেমা টানা কয়েক দিন হাউজফুল যাওয়াও ছিল তখনকার পরিচিত দৃশ্য।
আরও পড়ুন
সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠ নিয়ে যা বললেন কনকচাঁপা
বিশেষ করে নব্বই দশকে রুবেল ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাকশন নায়ক। তার সিনেমা মুক্তি মানেই ছিল দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা। প্রেক্ষাগৃহে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সারি, একের পর এক হাউজফুল শো-সব মিলিয়ে সিনেমাকে ঘিরে তৈরি হতো উৎসবের আবহ।
সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে পুরোনো দিনের সেই প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক সংস্কৃতি। একসময় যেসব হল দর্শকদের কোলাহলে মুখর থাকত, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন শুধুই স্মৃতি।
আরও পড়ুন
সাবিনা ইয়াসমীনের যে গান শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি লতা মঙ্গেশকর
ওমর সানীর এই পোস্টে তাই একই সঙ্গে ধরা দিয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও ঢাকাই চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গল্প। মৌসুমীর সঙ্গে হারিকেন হাতে তার ছবিটি যেমন ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো দিনের আলো-আঁধারির স্মৃতি, তেমনি রুবেলের ‘তিনদিন হাউজফুল’ হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ঢাকাই সিনেমার সেই হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণালি সময়।
এমএমএফ
বিজ্ঞাপন