বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম চারদিনের আন-অফিশিয়াল ম্যাচে চরম নাকানি-চুবানি খাওয়ার পর পচেফস্ট্রমে তাওহীদ হৃদয়ের অতিমানবীয় ও অনন্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে দ্বিতীয় আন-অফিশিয়াল টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ।
কিন্তু সেই ২ ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল, পচেফস্ট্রমের মাঠ, উইকেট সম্পর্কে অনেক কথাই অজানা রয়ে গেছে। আজ রোববার জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে তার বর্ণনা দিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। পাশাপাশি আরও একটি তথ্য দিয়েছেন, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। কী সেটা? আসুন, তাওহীদ হৃদয়ের মুখ থেকেই শোনা যাক।
‘আসলে আমার ওই ট্রিপল সেঞ্চুরির পিছনে একজনের অনুপ্রেরণা, পরামর্শ ও গাইড অনেক বেশি কাজে দিয়েছে।’
তিনি কে?
‘মুশফিক ভাই (মুশফিকুর রহিম) দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।’
প্রশ্ন ছিল, আপনি ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পর কি জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের কেউ আলাদা করে আপনার সঙ্গে কথা বলেছেন? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই তাওহীদ হৃদয় মুশফিকুর রহিমের কথা বলেন।
হৃদয়ের ব্যাখ্যা, ‘আমাকে কমবেশি সবাই অভিনন্দন জানিয়েছেন। সবাই কনগ্র্যাটস মেসেজ দিয়েছেন। তবে একজনের কথা আমি আলাদাভাবে বলব। তিনি মুশফিক ভাই (মুশফিকুর রহিম)। তিনি আমাকে সব সময়ই উৎসাহ দেন। অনুপ্রাণিত করেন। পরামর্শ দেন। গাইড করেন। পচেফস্ট্রমে চারদিনের ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সাথে যোগাযোগ রেখেছেন মুশফিক ভাই। পরামর্শও দিয়েছেন। সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরির পর অভিনন্দন, শুভেচ্ছার পাশাপাশি বারবার বলেছেন, খুশি হওয়ার কিছু নেই। তোমার কাজ ব্যাটিং করা, ব্যাটিং করে যাও।’
‘সত্যি কথা বলতে কি, মুশফিক ভাই আমার আইডল। সেই ছোট থেকে মুশফিক ভাইকে দেখে বড় হয়েছি। তার ডিটারমিনেশন, ডেডিকেশন অসাধারণ। উনার মতো ডেডিকেটেড, মোটিভেটেড ক্রিকেটার অনুপ্রাণিত করলে খুব খুব ভালো লাগে। ভিতরে একটা অন্যরকম ফিলিং হয়। একটা ভিন্ন মাত্রার অনুপ্রেরণা কাজ করে।’
তিনি বারবার বলেছেন, ‘খুশি হওযার কিছু নেই। তোমার কাজ ব্যাটিং করা। ব্যাটিং করে যাও। যতটা সময় পারো উইকেটে থাকো। আমিও সেই চেষ্টাই করেছি। লক্ষ্য ছিল শেষ ব্যাটারকে নিয়েও যেন লম্বা সময় ব্যাট করতে পারি।’
পচেফস্ট্রমের উইকেট কেমন ছিল? আর দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং সম্পর্কে একটু ধারণা দেবেন কি? এ প্রশ্নের উত্তরে হৃদয় বলেন, ‘উইকেট এমনিতে ফ্ল্যাট ছিল। তবে ম্যুভমেন্ট ও টার্ন ছিল। পেসারদের কিছু বল স্কিডও করছিল। আবার স্পিনারদের বল ঘুরেছে। উইকেট একটু ফ্ল্যাট হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের বোলিংটা বেশ স্ট্রং ছিল। তা না হলে আমরা প্রথম ম্যাচে একই দলের কাছে আউটপ্লেইড হতাম না।’
‘প্রোটিয়া-এ দলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দলটির ৭/৮ জন প্লেয়ার নিয়মিত ইংলিশ কাউন্টি খেলে। তাদের এ-দলের হয়েই অনেক ম্যাচ খেলে। অনেক ভালো দল। আমার মনে হয়, আমাদের জাতীয় দলও যদি ওই প্রোটিয়া-এ দলের সাথে ৪–৫ দিনের ম্যাচ খেলে, তাতে দারুণ লড়াই হবে।’
‘ওই দলের ব্যাটিং টেকনিক, অ্যাপ্রোচ আর বোলিং দেখে অনেক কিছু শেখার আছে। ওদের ন্যাশনাল টিমের কোয়ের্ৎজিও খেলেছে। ওই দলের বেশ কয়েকজন ব্যাটার-এ দলের হয়ে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সেঞ্চুরি করেছেন। সব মিলিয়ে দারুণ এক দল ছিল সাউথ আফ্রিকান-এ দলটি।’
এমন এক অসাধারণ ইনিংস খেলার পর হৃদয়ের ভাবনা কী? তিনি বলেন, ‘আমি আমার ফিউচার নিয়ে কখনোই চিন্তা করি না। সব সময় নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়কে মানদণ্ড ধরে খেলি। কৌশল সাজাই। পরিকল্পনা আঁটি।’
‘যদি কখনো আমাকে লাল বলের জন্য যোগ্য মনে করা হয়, ডাকা হয়, তাহলে খেলব। আমার কোনো সমস্যা নেই। একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমার কাজ হলো খেলা। আমাকে যেখানে খেলতে বলা হবে, আমি সেখানেই খেলতে প্রস্তুত।’
‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি মনে করি, লাল বল তথা লঙ্গার ভার্সনই হলো একজন ক্রিকেটারের মান উন্নত করার সর্বোত্তম মাধ্যম। এই ফরম্যাটেই ব্যাটিং ও বোলিংয়ে উন্নতি করার এবং নিজেকে তৈরি করার সর্বোত্তম ক্ষেত্র। ক্রিকেট খেলাটাই ভালো শেখা যায় লঙ্গার ভার্সন থেকে।’
‘আমার জীবনে অনেকগুলো পর্যায় আমি পার করেছি। আড়াই দিন ব্যাট করেছি। দুদিন পুরো। আর একদিন লাঞ্চের পর থেকে ব্যাট করেছি। শেখার শেষ নেই। আমি ওই এক ইনিংস থেকে অনেক কিছুই শিখেছি।’
এআরবি/আইএইচএস
বিজ্ঞাপন