জাতীয়

কুড়িগ্রামে সার নিয়ে উত্তেজনা, গুদাম ভাঙচুর-সড়ক অবরোধ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বিতরণ শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই দিন ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, রৌমারীর মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে রাত থেকেই কৃষকরা সার নিতে জড়ো হতে থাকেন। স্থানীয়রা জানান, কেউ কেউ রাত দুইটার দিকে এসে লাইনে দাঁড়ান। সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে একপর্যায়ে কৃষকরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন। ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল। প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে এসেছিলেন। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সহায়তা নিতে যান। এ সময় আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশি সহায়তায় গুদামে থাকা সার বিতরণ শুরু হয়। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অন্যদিকে, ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে ঘিরে রাখেন। সার নিয়ে যাচ্ছেন এক কৃষক/ ছবি- জাগো নিউজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণ শুরু হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক কৃষক জড়ো হন। পরে খোলা বাজারে সার বিক্রির দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। খোলা বাজারে সার বিক্রির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে ৩৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ১৫৭ বস্তা এমওপি সার বিতরণ করা হয়। কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, সোমবার সোনাহাট ইউনিয়নের চার ওয়ার্ডের কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করার কথা ছিল। তবে ইউনিয়নটির বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। খোলা বাজারে সার বিক্রির বিষয়ে সোমবার বিকেলে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা চলছে। রোকনুজ্জামান মানু/এসজেডএইচ/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>