ব্রেকিং নিউজ
প্রতি মাসে আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত? পিরোজপুরের ৩১ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ  ৬ মাসে সরকারের খাদ্য মজুতে বড় উল্লম্ফন রাজশাহীতে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মা, চরাঞ্চল প্লাবিত গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান সামগ্রীর সুরক্ষা দরকার নতুন পে স্কেল: স্বস্তির আড়ালে আর্থিক ঝুঁকি বৃষ্টির মধ্যে কালিন্দী নদী দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ Manav Suthar Record: ১৩১ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করলেন, কাউন্টিতেও এবার রেকর্ডবুকে মানব সুথার ‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’, বিতর্কে অভিনেত্রী
জাতীয়

ঘটক এখন অতীত, সঙ্গী খোঁজার নতুন ট্রেন্ড ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
জারা হাসান একসময় নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়ের জন্য বন্ধু বা পরিচিতজনই ছিলেন সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম। সময় বদলেছে, হাতে এসেছে স্মার্টফোন, আর পরিচয়ের বড় একটি জায়গা দখল করেছে ডেটিং অ্যাপ। ছবি দেখে পছন্দ, পছন্দ হলে কথোপকথন, তারপর দেখা করার সিদ্ধান্ত। সবকিছুই যেন কয়েকটি ক্লিকেই হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সহজতার মধ্যেই অনেকের মনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ক্লান্তি। অসংখ্য প্রোফাইল দেখা, বারবার একই ধরনের কথোপকথন, হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কারো উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা অনেককেই আবার বাস্তব জীবনের পরিচয়ের দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনেরই নতুন উদাহরণ ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’। নামটি যেমন মজার, আয়োজনটিও তেমনই সামাজিক। এখানে কেউ নিজের জন্য সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজতে একা মঞ্চে দাঁড়ান না। বরং তার কোনো বন্ধু মঞ্চে উঠে কয়েক মিনিটের একটি ছোট উপস্থাপনার মাধ্যমে তাকে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আরও পড়ুন অফিসে এসি নিয়ে যুদ্ধ! ঠান্ডায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে বন্ধুটি বলতে পারেন, মানুষটি কেমন স্বভাবের, কী করতে ভালোবাসেন, তার রসবোধ কেমন, কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন কিংবা কেন তাকে জানার মতো একজন মানুষ মনে হতে পারে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিনিটের এমন উপস্থাপনার পর উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ পান। প্রচলিত পরিচয়পর্বের অনুষ্ঠান বা সরাসরি কাউকে পছন্দ করার আয়োজনের সঙ্গে এর পার্থক্য এখানেই। একজন মানুষ নিজের সম্পর্কে কী লিখেছেন বা অনলাইনে কেমন ছবি দিয়েছেন, তার বদলে এখানে প্রথম পরিচয়ের বড় অংশটি আসে কাছের বন্ধুর চোখ দিয়ে। ফলে ব্যক্তিত্ব, ব্যবহার, রসবোধ, মূল্যবোধ কিংবা নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয় সামনে আসার সুযোগ থাকে। হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশও পুরো বিষয়টিকে তুলনামূলক স্বাভাবিক করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ আয়োজন এরই মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় জনপ্রিয় হয়েছে। দ্য নিউজ অ্যান্ড অবজারভারের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অনুষ্ঠান ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ৫০টিরও বেশি শহর এবং বিশ্বের ১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আয়োজন হচ্ছে বার বা সামাজিক আড্ডার জায়গায়। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আসা এবং সম্ভাব্য পরিচিত ব্যক্তির সম্পর্কে আগে কিছুটা জানার সুযোগ থাকায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরাসরি পরিচয়ের চাপও কমতে পারে বলে মনে করছেন এর সমর্থকেরা। এই প্রবণতার পেছনে ডেটিং অ্যাপ নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা বিরক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের একটি প্রতিবেদনের তথ্য দ্য গার্ডিয়ান উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি ডেটিং অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা এক বছরে ১৬ শতাংশ কমেছে। এই পরিসংখ্যান অবশ্য ডেটিং অ্যাপের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না। তবে মানুষের একটি অংশ যে অনলাইন পরিচয়ের বাইরে আরও স্বাভাবিক, সরাসরি ও অর্থবহ সামাজিক যোগাযোগ খুঁজছে, তা এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়। মনোবিশেষজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পুনর্বাসন পরামর্শক সোনাল খাঙ্গারোটের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ডেটিং অ্যাপে একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অনেকের কাছে বিষয়টি একঘেয়ে এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বারবার ‘সোয়াইপ’ করা, এমন কথোপকথনে সময় দেওয়া যার কোনো পরিণতি হয় না, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নিজের একটি নিখুঁত ছবি তুলে ধরার চাপ এই ক্লান্তিকে আরও বাড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে পরিবার ও সামাজিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্য ব্যক্তি আদৌ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান কি না, সেই অনিশ্চয়তাও। আরও পড়ুন ব্ল্যাকহেডস কেন হয়, দূর করার সঠিক উপায় জানুন এই জায়গায় বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। একজন পরিচিত বন্ধু যখন কাউকে সামনে আনেন, তখন সেখানে প্রাথমিকভাবে একটি সামাজিক আস্থা কাজ করে। একই সঙ্গে দলগত পরিবেশে দেখা হওয়ায় একান্তভাবে মুখোমুখি হওয়ার চাপও কম থাকে। ফলে ছবি বা কয়েক লাইনের পরিচিতির বদলে একজন মানুষের কথা বলার ধরন, রসবোধ, আচরণ, আত্মবিশ্বাস এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাভাবিক ধরন কিছুটা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, এসব গুণ অনলাইনের ছবি ও পরিচিতি দেখে বিচার করা তুলনামূলক কঠিন। তবে বন্ধুর সুপারিশ মানেই যে পরিচয়টি সফল হবে, এমন নয়। বরং এর কিছু সমস্যাও থাকতে পারে। বন্ধু যদি কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করে উপস্থাপন করেন, তাহলে অপর পক্ষের মনে এমন একটি প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তব মানুষটির মিল নাও থাকতে পারে। আবার পরিচয়টি ভালোভাবে এগোতে না পারলে বন্ধুটিও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। একই সামাজিক পরিসরের মানুষ হওয়ায় কেউ কেউ নিজের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা করতে পারেন, যাতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির পরিবেশ অস্বস্তিকর না হয়ে ওঠে। তাই এ ধরনের আয়োজনকে কোনো ‘সম্পর্কের পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মনোবিশেষজ্ঞ সোনাল খাঙ্গারোটের দৃষ্টিতে, এটি মূলত কথোপকথনের দরজা খুলে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান, মূল্যবোধের সামঞ্জস্য এবং সময় নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়ে। কোনো বন্ধু কাউকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু সম্পর্কটি কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করতে পারেন না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি সামাজিক আয়োজনের মূল্য শুধু সম্ভাব্য সম্পর্ক তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ হয়তো সেখানে গিয়ে কোনো নতুন সম্পর্কের সন্ধান পেলেন না, কিন্তু নতুন বন্ধু পেলেন। কারো সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি হলো, আবার কেউ হয়তো বুঝতে পারলেন যে তার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরও অনেক মানুষ যাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রত্যাশিত ফল না এলেও সামাজিকভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাটি অর্থবহ হতে পারে। সরাসরি মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর মানসিক উপকারের কথাও উল্লেখ করেছেন সোনাল খাঙ্গারোট। তার মতে, সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ মানুষের মধ্যে সংযুক্তির অনুভূতি বাড়াতে, একাকিত্ব কমাতে, মন ভালো রাখতে এবং সামাজিক সহায়তার পরিধি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য একটি অনুষ্ঠান একাই কারো একাকিত্ব দূর করে দিতে পারে না। তবে একই আগ্রহ বা অভিজ্ঞতার মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক পরিসরে নিয়মিত অংশ নেওয়া আরও পরিপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। আরও পড়ুন সংসারের সব সিদ্ধান্ত স্ত্রী নেন, এতে কি সুখী হওয়া যায়? বাংলাদেশেও বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের ধারণাটি একেবারে অচেনা নয়। আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় বন্ধু, সহপাঠী, সহকর্মী কিংবা পারিবারিক পরিচিতদের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বরাবরই ছিল। পার্থক্য হলো, এখন সেই পুরোনো সামাজিক ধারণাই নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন বিন্যাসে ফিরে আসছে। প্রযুক্তি পরিচয়ের পরিসর বড় করেছে ঠিকই, কিন্তু কাউকে সত্যিকার অর্থে জানার জন্য এখনো কথোপকথন, সময় এবং সরাসরি মানুষের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়। সম্ভবত ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ প্রবণতার আসল আকর্ষণ এখানেই। এটি প্রযুক্তির বিপরীতে প্রযুক্তিবিরোধী কোনো ঘোষণা নয়। বরং ডিজিটাল পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষ আবার এমন সামাজিক পরিসর খুঁজছে, যেখানে একজন মানুষকে শুধু একটি ছবি, কয়েকটি বাক্য কিংবা একটি অনলাইন প্রোফাইল দিয়ে বিচার করতে হয় না। পরিচয়ের শুরুটা যদি হয় একটু বেশি স্বাভাবিক, মানবিক এবং সামাজিক, তাহলে সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাবে তা না জানলেও অন্তত প্রথম কথোপকথনটি হতে পারে কিছুটা সহজ ও অর্থবহ। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কেএসকে
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>