বিজ্ঞাপন
রংপুরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে পোলট্রি মুরগির ডিমের দাম। সেইসঙ্গে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচসহ মাছের। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে অধিকাংশ সবজিসহ চাল-ডাল ও মাংসের দাম।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪-৪৫ টাকা।
এছাড়া কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। তবে পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আকারভেদে রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৬০০, কই ২০০-৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, কারপু ২০০-৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, বাটা ১৫০-২৫০ টাকা, শিং ৩০০-৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০-২৫০ টাকা এবং গছিমাছ ৮০০-১২০০ টাকা।
শাপলা বাজারের মাছ বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে মাছ আমদানি কমে গেছে। এ কারণে এই অঞ্চলের মাছের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো ও গাজর ১৪০-১৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা, কাঁকরোল গত সপ্তাহের মতোই ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৪০-৫০ টাকা থেকে কমে ৩৫-৪০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) গত সপ্তাহের মতোই ৩০-৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০-৩০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১৪০-১৬০ টাকা, দুধকুষির দাম কমে ৩০-৩৫ টাকা, শসা গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, লেবুর হালি আগের মতো ১০-১৫ টাকা, চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটোল ৩৫-৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, শিম ১৬০-১৮০ টাকা থেকে কমে ১২০-১৬০, বরবটি আগের মতো ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, লাউ (আকারভেদে) ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা, প্রতিকেজি ধনেপাতা ১২০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা, রকমভেদে শাকের আঁটি ১০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা, শুকনো মরিচ আগের মতোই ৪৫০-৫০০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২২-২৫ টাকা থেকে কমে ২০-২২ টাকা, সাদা আলু গত সপ্তাহের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা টাকা, শিল আলু ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া দেশি আদা ২২০-২৪০ টাকা থেকে কমে ২০০-২২০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন আগের মতো ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা হেলাল মিয়া বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে দুই-একটি সবজির দাম বাড়া-কমা হলেও অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আর এক-দুই মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে পারে। এতে সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মুরগি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম সামান্য বেড়ে ৩১০-৩২০ টাকা থেকে হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯০-৩০০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫২০-৫৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) গত সপ্তাহের মতোই ১৬০-১৮০ টাকা, মসুর ডাল (মাঝারি) ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৭০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৬৫-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতোই স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর২৮- ৬০-৬৫ টাকা, বিআর২৯- ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫০-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০, নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা এবং খোলা আতপ চাল ২০০-২১০ টাকা ও প্যাকেট চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জিতু কবীর/এফএ
বিজ্ঞাপন