ব্রেকিং নিউজ
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা: ৩৭ লাখ আপিল নিষ্পত্তিতে লাগতে পারে ১২ বছর পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়ে চুক্তিতে পৌঁছারও প্রত্যাশা ট্রাম্পের মোটরসাইকেলের নিবন্ধন দেখতে গিয়ে গুলিসহ ওয়ান শুটারগান উদ্ধার বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় শ্রমিক নিহত, চালক আটক ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি রাজশাহী মহানগর শিবির সভাপতির স্পিকারের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছাত্রদলকে রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি শিবির নেতার, পাল্টা হুঁশিয়ারি ছাত্রদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জাতীয়

আল্লাহ আপনার মধ্যে কী দেখেন?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
শায়খ আবদুল কাইয়ুম আল্লাহ তাআলা মানুষকে নেক আমলের বা ভালো কাজের বহু পথ ও সুযোগ দিয়েছেন। শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থিক নানা উপায়ে নেক কাজ করা যায় এবং নিজের আমলের পাল্লা ভারী করা যায়। আর এসব আমলের মধ্যে অন্যতম সেরা একটি আমল হলো মানুষের অন্তরে ভালো কাজের সুদৃঢ় তামান্না বা ইচ্ছা পোষণ করা। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, কেউ যদি কোনো সুন্দর কাজ, দ্বীনি ইবাদত কিংবা মানুষের উপকারের মতো কোনো ভালো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, মনে মনে তা করার প্রবল ইচ্ছা বা পরিকল্পনা করে, কিন্তু পরবর্তীতে বাধা আসার কারণে কাজটি সম্পন্ন করতে না পারে, তবে কেবল সেই সুন্দর নিয়তের কারণে আল্লাহ তাআলা ওই কাজটি করলে যে পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যেত, তার পুরোটাই তার আমলনামায় বরাদ্দ করে দেন। সুন্দর নিয়ত ও ভালো কাজের বাসনা রাখা নিজেই একটি বড় মাপের ইবাদত। যে কোনো আমল মানুষের প্রকাশ্যে আসার আগে প্রথম কিন্তু অন্তরেই দানা বাঁধে। বাস্তবে তা সম্পাদন করার আগেই মনের গভীরে সেই ভালো ইচ্ছা জাগ্রত হওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়। প্রকৃতপক্ষে, অন্তর হলো ইবাদত ও আমলের কেন্দ্র। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার শ্রেণীর মানুষের একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন। প্রথম জন হলেন এমন এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও প্রচুর ধন-সম্পদ উভয়টিই দান করেছেন। সে তার অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে সম্পদকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ও আখেরাতের কল্যাণ অর্জনে ব্যয় করে। এর ফলে আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত তার আমল যোগ হতে থাকে। দ্বিতীয় জন হলেন এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ভালো জ্ঞান ও অনুধাবন ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু অর্থসম্পদ দেননি। সেই জ্ঞানী লোক তখন অন্তরে এই তামান্না পোষণ করে যে, আল্লাহ যদি তাকে ওই ধনবান ব্যক্তির মতো সম্পদ দিতেন, তবে সেও একইভাবে দ্বীনের পথে ও মানব কল্যাণে তা খরচ করত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও কেবল এই সৎ ও আন্তরিক নিয়তের কারণে আল্লাহ তাআলা ওই দরিদ্র ব্যক্তিকেও প্রথম ব্যক্তির সমান সওয়াব দান করবেন। অর্থাৎ নিয়তের কারণে দুজনের সওয়াবের পরিমাণ সমান হয়ে গেল। তৃতীয় জন হলেন এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ অর্থসম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু শরিয়তের সঠিক জ্ঞান দেননি। সে হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো গোনাহ ও অপচয়ে অর্থ উড়িয়ে দেয়। ফলে সম্পদ তার জন্য গোনাহ ও জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরও পড়ুন আংটি হারিয়ে কি সত্যিই রাজত্ব হারিয়েছিলেন সুলাইমান (আ.)? আর চতুর্থ ব্যক্তি হলেন এমন একজন দরিদ্র লোক, যার কাছে সম্পদও নেই, আবার সঠিক দ্বীনি জ্ঞানও নেই। সে যখন ওই পাপিষ্ঠ ধনীকে অবাধে গোনাহ ও ভোগ-বিলাসে মেতে থাকতে দেখে, তখন সে আফসোস করে মনে মনে বলে, ‘আহা! আমার যদি অত টাকা থাকত, তবে আমিও এমনভাবে ফুর্তি করে জীবনটা উপভোগ করতাম!’ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কেবল এই বদ নিয়ত ও অপকর্মের ইচ্ছা পোষণের কারণে সেও প্রথম পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সমান গোনাহ অর্জন করল। এই চার শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টান্ত থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ভালো কিংবা মন্দ যে কোনো কাজের মূল ভিত্তি তৈরি হয় মানুষের অন্তরে। মানুষের বাহ্যিক শারীরিক আমলের চেয়ে অন্তরের এই মানসিক আমলকে শরিয়তে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত’ অর্থাৎ সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোরআনে কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন, কেয়ামতের দিন মানুষের ধন-সম্পদ কিংবা সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তিই নাজাত পাবে, যে আল্লাহর দরবারে ‘কালবুন সালিম’ বা একটি পবিত্র ও সুস্থ অন্তর নিয়ে হাজির হবে যে অন্তরে সব সময় ভালো কাজের আকুতি ছিল। সাহাবিরা একবার রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি কে?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘যে ব্যক্তির অন্তর সুপরিচ্ছন্ন ও পবিত্র এবং যার জিহ্বা সত্যবাদী।’ সাহাবিরা আরজ করলেন, ‘সত্যবাদী জিহ্বার বিষয়টি তো আমরা বুঝি, কিন্তু পরিষ্কার বা পরিচ্ছন্ন অন্তরের অর্থ কী?’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বোঝালেন, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় বিদ্যমান, যে সর্বপ্রকার গোনাহ, সীমা লঙ্ঘন, দুশমনি, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে নিজের মনকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখে, সে-ই সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেমন তাকওয়া বা খোদাভীতি প্রয়োজন, তেমনি মানুষের প্রতি আচরণেও তাকওয়ার দরকার রয়েছে। অহেতুক অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতাপোষণ মানুষের অন্তরকে নাপাক করে দেয়। অন্য একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো আছে; সেটি যদি পরিশুদ্ধ থাকে, তবে পুরো শরীরই সংশোধন হয়ে যায়। আর সেটি যদি পচে যায়, তবে পুরো শরীরই ধ্বংস হয়ে যায় জেনে রাখো, সেটিই হলো মানুষের অন্তর। আমরা যখন বাইরে বের হই বা মসজিদে আসি, তখন আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন রাখি, মুখমণ্ডল ধুয়ে আসি যাতে কেউ আমাদের দেখে ঘৃণা না করে। অথচ আল্লাহ তাআলা মানুষের বাহ্যিক চেহারা বা সুরতের দিকে তাকান না, তিনি দেখেন মানুষের অন্তরের অবস্থা ও তার আমলসমূহ। বাইরে সুন্দর সেজে ভেতরের মনকে ময়লা ও কালিমালিপ্ত করে রাখলে আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া যায় না। অন্তরের এই সুস্থতা অর্জনের মূল উপায় হলো আখেরাতের প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া। দুনিয়ার প্রতি অন্ধ আকর্ষণ কমিয়ে আখেরাতে মুক্তি পাওয়ার চিন্তা যাদের প্রধান হয়ে দাঁড়ায়, তাদের পক্ষে আর কারো ক্ষতি করা বা হিংসা পোষণ করা সম্ভব হয় না। আরও পড়ুন পাত্র খোঁজার জন্য ঘটকের কাছে পাত্রীর ছবি দেওয়া কি জায়েজ? সাহাবি জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছ থেকে যে কয়টি বিষয়ে বায়াত নিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিল প্রতিটি মুসলিমের কল্যাণ কামনা করা এবং কারো প্রতি হিংসা বা বদ নিয়ত না রাখা। কাজেই কেবল নামাজ, রোজা বা বাহ্যিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের অন্তরের আমলের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। সর্বদা ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করা এবং অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ মুছে ফেলা আল্লাহর দরবারে মর্যাদা বৃদ্ধির বড় মাধ্যম। সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল: মুসলিম উম্মাহ -শায়খ আব্দুল কাইয়ুম ওএফএফ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>