বিজ্ঞাপন
পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়াও হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর’ ‘আগ্রাসন ও দুষ্কর্মের’ জবাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন ট্যাংকারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করা আরও ১০টি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে হরমুজ প্রণালি।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্মতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস-এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।
এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৭৮৭ জন আহত হয়েছেন।
কেএম
বিজ্ঞাপন