জাতীয়

ফেরত এলো হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের লুট হওয়া সব ব্লক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে নিয়ে যাওয়া দুই হাজার ৬৪৪টি ব্লক উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাউবো নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সবমিলিয়ে দুই হাজার ৬৪৪টি ব্লক লুট হয়েছিল। পুলিশের সহায়তায় সব ব্লকই উদ্ধার করা হয়েছে। এখন এগুলো নির্ধারিত স্থানে বসানো হচ্ছে। পানি নেমে গেলে সিমেন্ট দিয়ে ব্লকগুলো শক্তভাবে স্থাপন করা হবে।’ এর আগে গত ২৯ আগস্ট ‘হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ২ হাজার ব্লক লুট, ঝুঁকিতে বোরো ফসল’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ব্লক নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছেন, শুরুতে তারা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। পরে পুলিশ ও পাউবোর কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে বোঝানোর পর নিজেরাই নৌকায় করে ব্লকগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ব্লক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শুরুতে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরে পুলিশ ও পাউবোর উদ্যোগে সব ব্লক ফেরত আসায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। তাদের মতে, স্থানীয় মানুষকে বাঁধের গুরুত্ব বিষয়ে সচেতন করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্রে জানা যায়, চরহাইজদা উপপ্রকল্প ফসল রক্ষা বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিঙ্গাপোতা হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আরও পড়ুন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ২ হাজার ব্লক লুট, ঝুঁকিতে বোরো ফসল বাঁধটি ডিঙ্গাপোতা হাওরের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরি উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার পানি থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে উত্তর বরান্তর বাজারের পাশে চিকাডুবি হাওর এলাকায় বাঁধের প্রায় ২৫০ মিটার অংশ থেকে ব্লক খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। পরদিন স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান। এরপর ২৩ আগস্ট পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন মোহনগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ ও পাউবো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লকগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য বোঝায়। নিয়ে যাওয়া কিছু ব্লক গোয়ালঘরে, কিছু মাচার নিচে এবং কিছু হাওরে নামার সিঁড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। কেউ কেউ বাড়ির পাশে ঢেউ থেকে রক্ষার জন্যও সেগুলো রেখেছিলেন। বাঁধের পাশের বরান্তর গ্রামের ব্যবসায়ী বজলু মিয়া অভিযোগ করেন, বানিয়াহারী গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি নৌকায় করে ব্লক নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বাধা দিলে তাকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, বানিয়াহারী গ্রামের লোকজন রাতের বেলা বাঁধ থেকে ব্লক নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পারেন। পরে তাদের বাড়িঘরে কিছু ব্লক পাওয়া যায়। পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত সব ব্লক ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ব্লক নিয়ে গিয়েছিলেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে যাতে কেউ না বুঝে বাঁধের কোনো সম্পদ সরিয়ে না নেন, সেজন্য স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে। বাঁধ ও হাওরের সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’ কামাল হোসেন/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>