জাতীয়

প্রধান বিচারপতি-আইনজীবীদের আলোচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল অপ্রাসঙ্গিক

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের আলোচনা, আমাদের দাবি- কোনোটিতেই তিনি প্রাসঙ্গিক নন। তার বক্তব্য অনভিপ্রেত, আনবিকামিং’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো ভূমিকা নেই। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন খোকন। আরও পড়ুন প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ, সংসদে যা বললেন আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘এখানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে? তিনি কে? তার বক্তব্যই অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের আলোচনা, আমাদের দাবি— কোনোটিতেই তিনি প্রাসঙ্গিক নন। তার বক্তব্য অনভিপ্রেত, আনবিকামিং।’ তিনি বলেন, ‘তিনি তো সুপ্রিম কোর্টবারের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আমি বিস্মিত, আমি হতবাক।’ ৮ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে খোকন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল— হু ইজ হি হিয়ার!’ তিনি বলেন, ‘হি ইজ ইরিলেভেন্ট, তার বক্তব্য ইরিলেভেন্ট, হি ইজ নোবডি ইন আওয়ার ডিসকাশন, ইন আওয়ার ডিমান্ড।’ নিজের নির্বাচিত বিভিন্ন পদে থাকার কথা উল্লেখ করে খোকন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা আমাকে ১১ বার বিভিন্ন পদে নির্বাচিত করেছেন এবং সারা বাংলাদেশের আইনজীবীরা বার কাউন্সিলে তিনবার নির্বাচিত করেছেন। ২০ বছর আমি ইলেক্টেড। আমি আইনজীবীদের কথা বলবো, বিচারপ্রার্থীদের কথা বলবো প্রধান বিচারপতির সঙ্গে।’ আরও পড়ুন প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনায় সংসদে জামায়াত এমপির উদ্বেগ অ্যাটর্নি জেনারেল একসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড।’ যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত ৮ সেপ্টেম্বর একজন আইনজীবীর ওপর আদালতের আরোপ করা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কমানোর অনুরোধকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ছেড়ে যান। পরে ওই দিন আর আদালত বসেনি বলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। ঘটনার দিন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাংবাদিকদের কাছে পৃথকভাবে বক্তব্য দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সেদিন বলেন, একপর্যায়ে ‘অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে’ মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ আরও পড়ুন মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি কাজল বলেন, বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ‘একটু লাইটলি’ নেন। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট, আমরা যেখানে ওকালতি করি, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কখনো কখনো প্রধান বিচারপতি আদালতে আমাদের বকা দেন। আমরা তো সেভাবে রিঅ্যাক্ট করি না।’ বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে বিচার বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়েও কথা বলেন খোকন। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করেছি। সেখানে বিচার বিভাগের দুর্নীতি, মামলার তদবির, মামলা লিস্টে তোলার ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং কিছু জুডিশিয়াল অফিসারের দুর্নীতি নিয়ে আইনজীবীরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।’ এসব বিষয় প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করা তার দায়িত্ব বলেও জানান তিনি। খোকনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালতে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যদি বিচারপ্রার্থীর মামলা করার সময় তদবির করতে হয়, সব জায়গায় টাকা দিতে হয়, এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার।’ ‘রাজনৈতিক’ বিচারপতিদের তদন্ত দাবি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতির আচরণ রাজনৈতিক ছিল বলেও অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি। তার দাবি, গত আড়াই বছরেও ওই বিচারপতিদের অনেকে সুপ্রিম কোর্টে বহাল রয়েছেন। তাদের বিষয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের দাবি জানান তিনি। এক মাসের মধ্যে ‘বস্তি’ উচ্ছেদের দাবি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কর্মচারীদের জন্য নির্মিত বাসস্থানকে ‘বস্তি’ আখ্যা দিয়ে খোকন বলেন, আইনজীবীদের বসা ও চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। অথচ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বস্তি রয়েছে। ‘বস্তি উচ্ছেদ করে এখানে আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে, আইনজীবীদের জন্য বিল্ডিং করতে হবে, হল রুম করতে হবে’ বলেন তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বস্তি উচ্ছেদ এবং আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান খোকন। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে এক মাসের মধ্যে যদি না করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’ আপিল বিভাগে তিন বেঞ্চ গঠনের দাবি আপিল বিভাগে অন্তত তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবিও জানান খোকন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। বিচারপ্রার্থীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা কমাতে দ্রুত বেঞ্চ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সূত্রপাতের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি এখনো প্রত্যাহার হয়নি বলেও উল্লেখ করেন খোকন। এ বিষয়ে আইনজীবীরা আরও আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবেন বলে জানান তিনি। এফএইচ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>