বিজ্ঞাপন
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটি আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপা ও সব উপজেলায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই হিসাবে হাতে সময় আছে দুই মাস ১০ দিন।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার কাজ চলছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বই ছাপার কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
তবে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপা সবেমাত্র শুরু হয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কিছু বই ছাপা হয়েছে। কিন্তু অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের চুক্তির প্রক্রিয়াও এখনো শেষ হয়নি। অথচ এ দুই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বই। এতে নির্ধারিত সময়ে বই ছাপা শেষ করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, ছাপাখানাগুলো প্রথমে বই মুদ্রণ করে বা ছাপায়। দ্বিতীয় ধাপে তারা বাঁধাইয়ের কাজ করে। এরপর বইগুলো মাপ অনুযায়ী কাটিং করা হয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ছাড়পত্র পেলে বই উপজেলায় পাঠানো হয়। এ ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াকে পিডিআই (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) বলা হয়।
এনসিটিবির তথ্যমতে, প্রাক-প্রাথমিকের ৬৬ শতাংশ বই ছাপা শেষ। বাঁধাই করা হয়েছে ৫০ শতাংশ। কাটিং শেষ হয়েছে ৪৭ শতাংশের। আর ছাড়পত্র দিয়ে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে প্রাক-প্রাথমিকের ২৪ শতাংশ পাঠ্যবই।
প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণির ৩৮ শতাংশ বই ছাপানো শেষ। ২২ শতাংশের বাঁধাইয়ের কাজ শেষ। ১৯ শতাংশ বইয়ের কাটিংও সম্পন্ন হয়েছে। আর পিডিআইয়ের মাধ্যমে ছাড়পত্র দিয়ে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে ১ শতাংশ বই।
দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কোনো বই পিডিআই বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৯ শতাংশ বই ছাপানো শেষ। ১৯ শতাংশের বাঁধাই এবং কাটিং সম্পন্ন হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির ১৩ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে। ১১ শতাংশ বইয়ের বাঁধাইয়ের কাজ শেষ। আর ১০ শতাংশ বইয়ের কাটিং সম্পন্ন। চতুর্থ শ্রেণির ৬ শতাংশ বই ছাপানো হয়েছে এবং ৩ শতাংশ বই বাঁধাই এবং কাটিং শেষ। পঞ্চম শ্রেণিতে ৩ শতাংশ বই ছাপানো শেষ এবং ২ শতাংশ বই বাঁধাই ও কাটিং শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলের (সাধারণ শিক্ষা) ৫ শতাংশ বই ছাপানো এবং ১ শতাংশ বই কাটিং শেষ হয়েছে। আর সপ্তম শ্রেণির স্কুলের ৫ শতাংশ বই ছাপা শেষ এবং ৩ শতাংশ বইয়ের কাটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির বই এখনো ছাপাখানায় যায়নি। এ দুই শ্রেণির বই ছাপাতে এখন ছাপাখানাগুলোর সঙ্গে চুক্তি করছে এনসিটিবি।
জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর সেপ্টেম্বরে বই ছাপানো শুরু করা হয়েছিল। আমরা এবার আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ছাপানো শুরু করেছি। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যেটা মনে হয়েছে যে, এভাবে কাজ চলতে থাকলে ৩০ নভেম্বরের আগেই সব উপজেলায় নতুন বই পৌঁছে যাবে। এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
কোন শ্রেণিতে পাঠ্যবই কত
এবার প্রাক-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি পাঠ্যবই ছাপা হবে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চমের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপা হবে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি বই। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভাষায় লেখা বই প্রয়োজন ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি।
প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বই ছাপানো হবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি। এছাড়া ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি।
নিম্নমাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি; সপ্তম শ্রেণিতে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি; অষ্টমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
মাধ্যমিকে নবম শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বই। এ শ্রেণির জন্য ছাপা হবে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি পাঠ্যবই। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই ছাপা হবে ৯ হাজার ৪ কপি।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যমতে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবার নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন যুক্ত হওয়া বিষয় দুটি হলো- খেলাধুলা ও আমাদের সংস্কৃতি। এ দুই বিষয়ের বই সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুই বিষয় হলো- আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। এ দুটি বইয়ের সংখ্যা ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
বই ছাপাতে সরকারের খরচ কত
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপাতে মোট ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপাতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪২০ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
এএএইচ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন