জাতীয়

ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব নিয়ে দখলের অভিযোগ, অনিশ্চয়তায় ক্রিকেটাররা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ঘিরে দখলের অভিযোগ উঠেছে। ধানমন্ডি সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান ক্লাবটি দখল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইশতিয়াক সাদেক ও সাফওয়ান সোবহানের পৃষ্ঠপোষকতায় ধানমন্ডির ক্রিকেট ও ফুটবল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে থাকা পৃষ্ঠপোষক ও সংগঠকদের বাইরে নতুন কোনো পক্ষ ব্যবস্থাপনায় এলে তাদের অধীনে খেলা নিয়ে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ধানমন্ডির দুই ক্রিকেটার জিয়াউর রহমান ও ফজলে রাব্বি। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যবস্থাপনা বদলের আশঙ্কা, পেমেন্ট জটিলতা এবং নতুন কারও অধীনে খেলার অনিশ্চয়তার কথা। সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর জানান, ক্লাবের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আগের ব্যবস্থাপনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা মোটের ওপর ইতিবাচক। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে পেমেন্ট-সংক্রান্ত জটিলতার কথা শুনেছেন এবং নতুন একটি পক্ষ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলেও জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি ক্লাব যখন শুরু থেকে আসি, ইশতিয়াক ভাই আমাদের সঙ্গে জয়েন হয়, আমি প্রথম বছর থেকে আট বছর খেলছি। ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আমরা খুব ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। এখানে পেমেন্ট কোনো ইস্যু ছিল না। সবসময় চ্যাম্পিয়ন টিম করেছে, ভালো টিম করেছে, ভালো পরিবেশও ছিল, (প্রিমিয়ার লিগে) রানার্সআপও হয়েছে। এখন ৫ আগস্টের পরে একটু পেমেন্ট ইস্যু হয়েছে এবং শুনলাম যে ধানমন্ডি কমিউনিটি নিয়ে নিচ্ছে। এরকম বিভিন্ন ইস্যু একটু শুনি।’ ‘ধানমন্ডি কমিউনিটি’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, সেটিও ওই ক্রিকেটারের কাছে পরিষ্কার নয়। তার দাবি, নতুন করে যাদের নাম আসছে, তাদের কাউকেই জিয়া ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, ‘আমি ঠিক জানি না। কিন্তু এখন টিম চালায় তো ইশতিয়াক ভাইরা। এদের কাউকে চিনি না। কিন্তু শুনলাম এদের সঙ্গে নাকি একটু সমস্যা হচ্ছে।’ ক্লাবের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন নিয়ে আপত্তির জায়গাটিও স্পষ্ট করেছেন জিয়াউর। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা সংগঠকদের বাইরে ভিন্ন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে সেটি ক্লাবের জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে। ক্লাব পরিচালনায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জিয়াউর বলেন, ‘এটা এভাবে নিতে পারে আমরা জানি না। আমরা যতটুকু জানি যে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটা সংস্থা। ওরা তো স্পোর্টসের না। আর স্পোর্টসে তো ইশতিয়াক ভাইরা বহু পুরাতন। উনাদের যে অবদান এটা ভোলার না। কারণ উনারা কিন্তু ফিডব্যাক পায় না। উনারা বছরে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করতেছে কিন্তু ওইভাবে ফিডব্যাক কিন্তু নাই। এখন যদি এই প্রবলেমটা হয় তাহলে অনেক বড় ইস্যু ক্রিয়েট হবে।’ নতুন কোনো পক্ষ দায়িত্ব নিলে খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। বিশেষ করে ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকা কারও হাতে দায়িত্ব গেলে দল পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। জিয়াউরের ভাষায়, ‘অবশ্যই। সাজানো গোছানো বাগানে একজন এসে ধান কেটে নিচ্ছে, বিষয়টা এরকম হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এই জিনিসটা খুব ভালো কিছু বয়ে আনবে না। কারণ এই ক্লাব চালাতে হলে যে ফাইনান্স করা লাগে সেটা তো আসলে তাদের পক্ষে সম্ভব কি না আমি জানি না। কিন্তু এটা মনে হয় না খুব একটা ভালো কিছু হবে। আমার মনে হয় এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। তারা এতদিন ধরে ইনভেস্ট করে আসতেছে এই টিমের জন্য এখন হুট করে যদি তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়, এটা খুবই একটা খারাপ বিষয়।’ এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে ধানমন্ডির হয়ে খেলার বিষয়ে আগ্রহী কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউর সরাসরি বলেন, ‘না, সম্ভাবনা কম। সম্ভাবনা খুবই কম।’ শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, নতুন ব্যবস্থাপনা এলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘না, এটা আমরা কখনো দেখি নাই। আমরা তো সবসময় যারা অর্গানাইজার ছিলেন তাদেরকেই চিনে আসছি। নতুন যারা আসছে বা আসতে চাচ্ছে আমরা তো চিনিও না। তো আমাদের সঙ্গে কমিউনিকেশন গ্যাপটা অনেক থাকবে। এমনকি আমরাও ইনসিকিউর ফিল করব যখন খেলার কথা বলবে। আমরাও হয়তো চিন্তা করব খেলব কি খেলব না।’ এদিকে ক্লাবের পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরও ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে দাবি করেছেন ক্লাবসংশ্লিষ্টরা। গত ৯ মে ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবকে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও স্কোয়াশসহ পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুনর্গঠনের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাবের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও। ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ, একাডেমির ফি সংগ্রহে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার কমে নগদ লেনদেন বেড়েছে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনিয়ম হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কোচ ও প্রশিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়ায় ফুটবল ও ক্রিকেট একাডেমির কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে মাঠ ও ক্লাব ব্যবস্থাপনায় ধানমন্ডি সোসাইটির প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পুনর্গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ক্রিকেট দল নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব। কিন্তু দলের নিবন্ধন, কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং বাজেট-কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্লাব-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকদের অর্থায়নে শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর বিভিন্ন খরচ বহন করা হয়েছে। গত এক দশকে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছেন সাফওয়ান সোবহান ও ইশতিয়াক সাদেক। তাদের হিসাবে, দুই বিভাগের পেছনে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় ১০ কোটি টাকার বেশি। এখন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হওয়ায় সেই ধারাবাহিকতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাডহক কমিটির ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে ক্লাবকে স্বনির্ভর করার উদ্যোগও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির হস্তক্ষেপ বা অন্তত আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন ক্রিকেটাররা। তাদের মতে, একটি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় হঠাৎ করে পরিবর্তন এলে সেটির জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকা দরকার। তা না হলে একই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে অন্য ক্লাবেও দেখা দিতে পারে। রাব্বি বলেন, ‘না, এটা আমরা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি যে ভালোর জন্য কী করা যায়। এই টাইপের ট্রেন্ড যদি চালু হয়ে যায়, পরে আরেকটি ক্লাবেরও একই সমস্যা হতে পারে। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব যে আসলে এটা সুরাহাটা কিভাবে করা যায়। এভাবে যেন না হয় যে কেউ এসেই টিম করবে। এটা তো আসলে হতে পারে না। একটা সিস্টেমে তো যাওয়া উচিত।’ এসকেডি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>