মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অধিকাংশ মানুষই অর্থবহ কথোপকথন চান। শুধু কোনো একজনকে প্রথম পদক্ষেপটি নিতে হয়। কিন্তু একজন এগিয়ে এসে সেই পদক্ষেপ নেন না বলে গভীর কথোপকথন আর হয়ে ওঠে না।

অনেকেই কারও সঙ্গে কথা বলার আগে মানসিক চাপে থাকেন। সেই সঙ্গে ভাবেন, গভীর আলাপ শুরু করলে পরিস্থিতি বিব্রতকর হয়ে যাবে। তাই বেশির ভাগ কথোপকথন আবহাওয়া, কাজ বা দৈনন্দিন ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
গভীর আলাপের সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো শুরু করা। কাউকে না কাউকে সাহস করে প্রথমে একটু ব্যক্তিগত বা আন্তরিক কিছু বলতে হয়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যালিসন উড ব্রুকসের মতে, একজন যখন নিজের সম্পর্কে সামান্য খোলামেলা কিছু বলেন, তখন অন্যজনও সাধারণত একইভাবে সাড়া দেন। একে মনোবিজ্ঞানে রিসিপ্রোক্যাল সেলফ-ডিসক্লোজার বা পারস্পরিক আত্মপ্রকাশ বলা হয়।
গভীর আলাপ মানে শুরুতেই জীবনদর্শন বা ব্যক্তিগত কষ্ট নিয়ে প্রশ্ন করা নয়।
বরং–
প্রথমে সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলুন।
তারপর ধীরে ধীরে আগ্রহ দেখিয়ে প্রশ্ন করুন।
অপর ব্যক্তি যে বিষয়ে কথা বলছেন, সেটি নিয়েই আরও জানতে চান।
এভাবে আলাপ স্বাভাবিকভাবেই গভীর হতে পারে।

যাঁর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হলো, তাঁরও ছোটখাটো বিষয় লক্ষ্য করে আলাপ শুরু করতে পারেন। যেমন ‘আপনার টি-শার্টটা দারুণ!’ কিংবা ‘গতকালের ম্যাচটা দেখেছেন, নাহিদ রানা কিন্তু ভালোই খেলল।’ এ ধরনের আন্তরিক পর্যবেক্ষণ আলাপকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
ভালো কথোপকথনের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ নয়; বরং অন্য মানুষটিকে বোঝা। তাই প্রশ্ন এমন হওয়া উচিত, যা মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ভাগ করে নিতে উৎসাহিত করে। যেমন ‘সিদ্ধান্তটা আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?’ বা ‘এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছেন?’, ‘সম্প্রতি কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে?’
গভীর আলাপ শুধু ভালো প্রশ্ন করার ওপর নির্ভর করে না; বরং মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপরও নির্ভর করে। কথা বলার সময়–
মাঝপথে বাধা দেবেন না।
দ্রুত পরামর্শ দিতে যাবেন না।
অন্যজনের কথার ওপর ভিত্তি করে অনুসরণমূলক প্রশ্ন করুন।
এতে মানুষ অনুভব করেন যে তাঁর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে।
কখনো কখনো গভীর আলাপের আগে বা মাঝে কিছুটা নীরবতা আসে। অনেকেই সেই নীরবতা ভাঙতে তাড়াহুড়া করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বস্তি স্বাভাবিক। সেটি মেনে নিতে পারলে সম্পর্ক আরও আন্তরিক হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা প্রায়ই ধরে নিই যে অপর ব্যক্তি গভীর কথা বলতে চাইবেন না বা আমার সঙ্গে কথা বলে আনন্দ পাবেন না। বাস্তবে এই ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল। মানুষ সাধারণত অর্থবহ আলাপের পর নিজেদের আরও সুখী, বোঝা হয়েছে (আন্ডারস্টুড) এবং সংযুক্ত (কানেকটেড) অনুভব করেন।
কিছু প্রশ্ন, যা আলাপ গভীরে নিতে পারে
সম্প্রতি কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে?
গত এক বছরে আপনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?
এমন কোনো সিদ্ধান্ত আছে, যা আপনার জীবন বদলে দিয়েছে?
এখন আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য কী?
কোন মানুষটি আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন এবং কেন?
এমন কোনো স্বপ্ন আছে, যা এখনো পূরণ করেননি? বাকেট লিস্টে কী কী আছে?
সূত্র: টাইম
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>