বিজ্ঞাপন
মক্কার আকাশসীমার দিকে একটি ড্রোন যাওয়ার দাবি করেছে সৌদি আরব। দেশটির দাবি, ড্রোনটি প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হিজাম আল-আসাদ সৌদি আরবের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ ‘বমি উদ্রেককারী মিথ্যা’।
আরও পড়ুন
হুথিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহায়তা চাইল সৌদি আরব: রিপোর্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সৌদি আরবের এ দাবিকে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেন।
সৌদি আরবের দাবি কী
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার আকাশসীমার দিকে যাওয়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে। পরে সেটিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।
আল-মালিকির ভাষ্য, ড্রোনটি মক্কার জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি ঘটনাটিকে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আরও পড়ুন
হুথির হাতে ভূপাতিত সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান
সৌদি জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্য করার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সৌদি আরব।
হুথিদের বক্তব্য
মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামী পবিত্র স্থানে হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুথিরা।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবার কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের একটি সামরিক সূত্র বলেছে, ইয়েমেন থেকে মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের দিকে কোনো হামলার হুমকি নেই।
আরও পড়ুন
সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র
হুথিদের ওই সূত্র সৌদি আরবের বক্তব্যকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে, মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ উঠলেও হুথিরা একইভাবে তা অস্বীকার করেছে।
ফলে সৌদি আরবের আকাশসীমায় ড্রোনটি কে পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা
মঙ্গলবার মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম পবিত্র নগরীতে এমন সতর্কতা জারি করা হলো। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
একই সময়ে সৌদি আরবের তায়েফ ও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
মক্কায় এমন সতর্কতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শহরটিতেই রয়েছে কাবা শরিফ, যা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান। প্রতিদিনের নামাজে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন।
নতুন করে বাড়ছে সৌদি-হুথি সংঘাত
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই বছর হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা অনেকটাই কমে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত বেড়েছে। হুথিরা সৌদি নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইরান-সমর্থিত হিসেবে পরিচিত হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরব এসব হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে আসছে।
মঙ্গলবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে হামলায় ১৩ জন আহত হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ়ভাবে’ জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/
বিজ্ঞাপন