ব্রেকিং নিউজ
বাল্যবিয়ে বন্ধ, ইউএনওর গাড়িতে হামলা করে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ‘চোর চোর’ বলে পথচারীর চিৎকার, ধাওয়া দিয়ে অপরাধীকে ধরলেন সার্জেন্ট বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে দাঁত দিয়ে কাটার চেষ্টা, যুবক নিহত গুমের তদন্ত পুলিশ করলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে: জামায়াতের আমির Cricket News: ইনিংসে পাঁচ উইকেট, নয় দশক পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ৫১ বছরের ক্রিকেটার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে: ঐক্য পরিষদ নিজের গুম হওয়ার যে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন সালাহউদ্দিন আহমদ আক্কিনেনি নাগার্জুন সম্পর্কে এই ১০ চমকপ্রদ তথ্য জানতেন শতবর্ষে শহীদ মিনারে শতকণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ নেপালে বন্যায় ভেসে এল ব্যাংকের লকার, এরপর শুরু হয় লুটপাট
জাতীয়

জনসমাবেশ থেকে সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত শাবানা আজমি, জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরপরই সোয়াইন ফ্লুতে (এইচ১এন১) আক্রান্ত হন প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি। জনসমাগমস্থল বা জনবহুল স্থানে যাতায়াতের পর এমন সংক্রমণ সাধারণ ঘটনা। তবে সঠিক জ্ঞানের অভাবে এটিই গুরুতর সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরপরই সোয়াইন ফ্লুতে (এইচ১এন১) আক্রান্ত হন

সোয়াইন ফ্লু কী ও কেন হয়?

সোয়াইন ফ্লু হলো এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট শ্বাসতন্ত্রের একধরনের তীব্র সংক্রমণ। মূল উৎপত্তি শূকরের শরীরে হলেও জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাইরাসটি মানবদেহে আক্রমণ ও বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা অর্জন করেছে। আক্রান্ত মানুষ কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে সংক্রমিত পরিবেশই এর প্রধান উৎস। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাস।

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় নির্গত ক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে এটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া দরজার হাতল, কাপড়, ফোন, যেকোনো পৃষ্ঠতল বা গণপরিবহনে ভাইরাসটি কিছু সময় বেঁচে থাকতে পারে। ভাইরাস সংক্রমিত জায়গায় হাত লাগানোর পর সেই হাত দিয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে এটি শরীরে প্রবেশ করে। সভা-সমাবেশ বা ভিড়ে এর সংক্রমণ সবচেয়ে দ্রুত ঘটে।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • সাধারণ ফ্লুর মতোই জ্বর, তীব্র কাশি, গলাব্যথা, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা ও চরম ক্লান্তি এর প্রধান লক্ষণ।

  • প্রাথমিক অবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার ও প্রচুর পানি পান করা জরুরি। শিশু, প্রবীণ বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মতো উচ্চঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (যেমন: ওসেলটামিভির/টামিফ্লু) গ্রহণ করা যেতে পারে।

  • তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। অবহেলায় মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

জনবহুল স্থানে চলাচলের সময় অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করুন

জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি

সোয়াইন ফ্লুতে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যেমন:

১. ফুসফুসের জটিলতা: এটি দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।

২. অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি: চিকিৎসা না হলে শরীরে সেপসিস, হৃদ্‌রোগ বা মস্তিষ্কে ইনফেকশনের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা হতে পারে।

উচ্চঝুঁকিতে কারা?

৬০ বছরের বেশি প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং অ্যাজমা, ডায়াবেটিক রোগী, ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

সোয়াইন ফ্লু দ্রুত ফুসফুসে ছড়িয়ে নিউমোনিয়া এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে

প্রতিরোধ

১. মাস্ক পরুন: জনবহুল স্থান বা যেকোনো সমাবেশে চলাচলের সময় অবশ্যই সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. হ্যান্ড হাইজিন: সাবান-পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত পরিষ্কার করুন।

৩. হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: হাঁচি বা কাশির সময় কনুইয়ের ভাঁজ বা টিস্যু ব্যবহার করুন।

৪. টিকা গ্রহণ: উচ্চঝুঁকির সবার প্রতিবছর নিয়ম করে ইনফ্লুয়েঞ্জা/সোয়াইন ফ্লু-প্রতিরোধী ‘ফ্লু শট’ নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধক।

৫. আইসোলেশন: জ্বর বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে নিজেকে সাময়িকভাবে ঘরে আলাদা রুমে থাকুন।

সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করাও বিপজ্জনক। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে সহজ পথ।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>