বিজ্ঞাপন
হাসিনার পতনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম একটি বড় কারণ ছিল- সাধারণ মানুষের কথা, রাগ, ক্ষোভ, অভিমান ও অভিযোগ তার কানে পৌঁছাতে না দেওয়া।
একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের কথাগুলো নিজেদের মধ্যে আটকে রেখেছিল। ফলে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ একসময় আর ক্ষোভ থাকেনি- তা বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে, আর সেই বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত পতন ডেকে এনেছে।
আপনি আমার মুখ বন্ধ করতে পারবেন। বলতে পারেন- ‘তুমিও তো দায়িত্বে আছো, তাই এসব বলা ঠিক নয়।’ আমি হয়তো দলের স্বার্থে চুপ থাকতে পারি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করবেন কীভাবে? তারা বলবে, লিখবে, প্রতিবাদ করবে। মানুষের কথা আটকে রাখা যায় না। এ কারণেই বলা হয়- ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়েও দেশ বড়।
আরও পড়ুন
সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি
তাই ব্যক্তিপূজা বন্ধ করুন। দলকে ভালোবাসুন, দেশকে ভালোবাসুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- সাধারণ মানুষের কথা শুনুন, তাদের অভিযোগ ও ক্ষোভকে গুরুত্ব দিন।
মনে রাখবেন, একজন মানুষ আপনার সঙ্গে না থাকলে হয়তো আপনার তেমন কিছু হবে না। কিন্তু ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে একসময় ১০ জনও আপনার পাশে থাকবে না। আর যাকে আপনি দিনের পর দিন অন্ধভাবে পূজা করেন, সময় বদলালে, তার স্বার্থে আঘাত লাগলে- সেই মানুষটিও হয়তো আপনাকে চিনবে না।
আপনি যদি চোরকে চোর বলতে ভয় পান, আবার সেই চোরের সঙ্গেই সংসার করেন, তার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন, অথচ মানুষের সামনে নীতির কথা বলেন- তাহলে মানুষ আপনাকে কী বলবে?
রাজনীতিতে অন্ধ আনুগত্য নয়, প্রয়োজন সত্য কথা বলার সাহস, ভুল স্বীকার করার মানসিকতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি, কোনো পদ বা কোনো গোষ্ঠী নয়- দেশটাই সবার আগে।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন