বিজ্ঞাপন
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৪২ বছর আগের ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ ঘোষণার সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করেছে ইসরায়েল। এতে ফিলিস্তিনিদের প্রায় ৪৮ একর জমি ওই ঘোষণার আওতায় যুক্ত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারের একটি সংস্থা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের উপনিবেশ স্থাপন ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশন বলেছে, ইসরায়েলের ‘ব্লু লাইন টিম’ ১৯৮৪ সালে করা ঘোষণাটির সীমানা সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত সীমানায় নতুন করে ১৯৩ দশমিক ৯৩ ডুনাম বা প্রায় ৪৭ দশমিক ৯ একর জমি যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ১২ দেশ
তবে আগের সীমানা থেকে ১৫ দশমিক ০৭ ডুনাম বা ৩ দশমিক ৭২ একর জমি বাদ দেওয়া হয়েছে। আর ১ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৮৫ ডুনাম বা ৩৫৪ একর জমি আগের মতোই রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঘোষণার আওতায় জমির পরিমাণ নিট প্রায় ১৭৯ ডুনাম বা ৪৪ একর বেড়েছে।
বসতি সম্প্রসারণের সুযোগ
ফিলিস্তিনি কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি বসতির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা তাৎক্ষণিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে এর ফলে নতুন যুক্ত হওয়া জমি ভবিষ্যতে পরিকল্পনা বা বরাদ্দের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন
বিশ্বজুড়ে অ্যাডিডাস বয়কটের ডাক, সমর্থন দিলেন তারকারা
জালুদ গ্রামের অবস্থান নাবলুসের দক্ষিণ-পূর্বে। আর আল-মুগাইয়ির গ্রাম রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি ও অবৈধ আউটপোস্টের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কমিশন।
একই সঙ্গে কৃষিজমি ও চারণভূমি ব্যবহারের ওপর ফিলিস্তিনিদের বিভিন্ন বিধিনিষেধও রয়েছে।
জমি দখলের বিস্তৃত কৌশল
ফিলিস্তিনি কমিশন বলেছে, নতুন এই পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমি দখলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
আরও পড়ুন
ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল
এ ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ ও ‘সরকারি সম্পত্তি’ ঘোষণা, জমি বাজেয়াপ্ত ও অধিগ্রহণের আদেশ জারি এবং ইসরায়েলি বসতিগুলোর এখতিয়ার পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বসতিগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমেও ভূমি নিয়ন্ত্রণের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।
গত আগস্টে কমিশন জানিয়েছিল, সিনজিল, আল-লুব্বান আশ-শারকিয়া ও কারইউত এলাকার প্রায় ১ হাজার ১৫২ ডুনাম বা ২৮৪ একর জমিকে ‘সরকারি সম্পত্তি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েল।
ওই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল কারমেই ওজ বসতি সম্প্রসারণ করা। পাশাপাশি, উত্তর রামাল্লাহ ও দক্ষিণ নাবলুসের মধ্যবর্তী এলাকায় বসতি ও আউটপোস্টগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করাও এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছিল কমিশন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে আসে। এরপর সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিরোধ চলছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েল পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিকেএএ/
বিজ্ঞাপন