জাতীয়

অ্যালার্ম বাজলেও সকালে ঘুম ভাঙে না কেন?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
অনেক মানুষ আছেন, যারা রাত জেগে কাজ করতে বা সময় কাটাতে পারেন অনায়াসে। কিন্তু সকাল হলেই যেন ঘুম ভাঙতে চায় না। অ্যালার্ম বেজে চলেছে, তবু বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করছে না। কোনোভাবে চোখ খুললেও মনে হয়, ঘুম যেন এখনো কাটেনি। সারাক্ষণ ঝিমুনি, মাথা ভার আর আলস্য ঘিরে থাকে। কিন্তু কেন এমন হয়? বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, ঘুম থেকে জেগে ওঠা কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়। সুইচ চাপলেই যেমন সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলে ওঠে, মস্তিষ্কও তেমনভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠে না। ঘুম ভাঙার প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন হয়। আর আপনি ঘুমের কোন পর্যায়ে ছিলেন, তার ওপরও জেগে ওঠার অনুভূতি অনেকটাই নির্ভর করে। ঘুমের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে? জেগে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। চিন্তা করা, কথা বলা, সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে চারপাশের তথ্য বিশ্লেষণ-সবকিছুই তখন চলতে থাকে। ঘুমিয়ে পড়ার পর মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন পরিবর্তন হয় এবং ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে শরীর-মস্তিষ্ক এগিয়ে যায়। ঘুম ভাঙার সময়ও মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে সক্রিয় অবস্থায় ফিরতে হয়। মস্তিষ্কের গভীর অংশ থেকে শুরু হওয়া জাগরণের সংকেত ধীরে ধীরে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম বা আরএএস এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মস্তিষ্কের জাগ্রত থাকার প্রক্রিয়ায় যুক্ত একটি স্নায়বিক ব্যবস্থা। আরএএস থেকে সংকেত থ্যালামাসে পৌঁছায়। থ্যালামাসকে অনেকটা মস্তিষ্কের যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য মস্তিষ্কের এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এরপর সংকেত মস্তিষ্কের বাইরের স্তর বা সেরিব্রাল কর্টেক্সে পৌঁছায়। এই অংশই চিন্তা, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। গভীর ঘুমে থাকলে ওঠা কঠিন ঘুমের সব পর্যায় থেকে একইভাবে জেগে ওঠা যায় না। বিশেষ করে গভীর ঘুমের পর্যায়ে থাকলে হঠাৎ অ্যালার্মে ঘুম ভাঙার পরও কিছু সময় অস্বস্তি বা ঘোরের মতো অনুভূতি হতে পারে। চোখ খুলে গেলেও তখন মনে হতে পারে, মাথা ঠিকমতো কাজ করছে না। কথা বলতে, মনোযোগ দিতে কিংবা বিছানা ছেড়ে স্বাভাবিক কাজে ফিরতেও সময় লাগে। এই অবস্থাকে বলা হয় স্লিপ ইনার্শিয়া। সাধারণত এটি সাময়িক এবং কিছু সময় পর কেটে যায়। ঘুম ভাঙার পরও কেন ঝিমুনি থাকে? ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্কের সব অংশ একই মুহূর্তে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে যায় না। জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। ফলে চোখ খোলার পরও কিছু সময় ঘুমঘুম ভাব থাকতে পারে। এছাড়া আপনি যদি ঘুমের মাঝামাঝি বা গভীর পর্যায়ে অ্যালার্মের শব্দে জেগে ওঠেন, তাহলে ঝিমুনি তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অনিয়মিত ঘুমের সময় এবং দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতিও সকালে সতেজ না লাগার কারণ হতে পারে। আরও পড়ুন কত কেজির ইলিশ কিনলে স্বাদে ভালো হয় জানেন? শরীরকে সময় দিন সকালে ঘুম ভাঙার পর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি সক্রিয় মনে না হওয়া সবসময় কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। মস্তিষ্ককে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। চোখ খুলে ফেললেও, মাথা কাজ করছে না। এই ঘোর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে। আরও পড়ুন পিৎজা খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি দীর্ঘসময় তীব্র ঝিমুনি থাকে, দিনের কাজকর্মে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয় বা নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম পেতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ এর পেছনে ঘুমের গুণগত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। সূত্র: হেলথলাইন, স্লিপ ডট কম, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>