ব্রেকিং নিউজ
১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু: আশফাকুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হরমুজে সৌদির সুপারট্যাংকারে হামলা, ফিলিপাইনের ২ নাবিক নিহত এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা, ১৫ মাস পর টি-টোয়েন্টিতে শান্ত নারী উদ্যোক্তার ওপর এ কেমন ‘ফ্লাইং কিক’ প্রতিযোগিতা! এশিয়ান গেমসে পুরো শক্তির দল নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, লিটনই অধিনায়ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হিলিতে র‌্যালি সিংড়ায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ পোশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে জোর পে-স্কেল: আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ
জাতীয়

আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিকদের জরুরি স্বস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানালেন হাইকোর্ট

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে সেই আবেদন শুনতে অস্বীকার করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাটি খারিজ করতেও রাজি হননি আদালত, সাংবাদিকদেরও কোনো রকম স্বস্তি দেননি।

কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্রসংগঠন ফেটসুর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সহিংসতার প্রতিবেদনে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করায় আনন্দবাজার পত্রিকার শীর্ষ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

আজ বুধবার সাংবাদিকদের আইনজীবী বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শোনার আবেদন জানান। কিন্তু তা শুনতে রাজি হননি আদালত।

সাংবাদিকদের তরফে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ দুটি প্রকাশের পর সাংবাদিকেরা একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েছেন।

গেরুয়া রংকে ভারতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের রং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সহিংসতার পর গত ২১ আগস্ট এই শব্দ দুটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ব্যবহার করা হয়। এ শব্দের ব্যবহারে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আপত্তি জানানোর পরই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

আইনজীবী এস এন মুখোপাধ্যায় আজ বুধবার আদালতকে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অনুভূতি উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ করা হয়েছে, আমি অর্থাৎ সাংবাদিকেরা সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছি। তিনটি ঘটনা ঘটেছে। আমার জরুরি স্বস্তি প্রয়োজন।’

এরপর আদালত নির্দেশ দেন, মামলায় স্বস্তি না চেয়ে মামলা বাতিলের জন্য আবেদন করাই সঠিক কাজ হবে। এস এন মুখোপাধ্যায় উত্তর দেন, ‘আমি বাতিল করার আবেদনই জানাচ্ছি।’ বিচারপতি জানান, বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মেই এগোবে। নিয়মমাফিকভাবে প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে।

এস এন মুখোপাধ্যায় দ্রুত তালিকাভুক্তির চাপ দিয়ে বলেন, বিষয়টিতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে আদালত এই পর্যায়ে মামলাটি বিশেষভাবে নির্ধারণ করতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়ে উল্লেখ করেন, এফআইআর বাতিলের একাধিক আবেদন ইতিমধ্যে বেঞ্চের সামনে বিচারাধীন।

আদালত বলেন, ‘আমি এখন কোনো নতুন বিষয় আলাদা করে নির্ধারণ করছি না। কারণ, আমার কাছে অনেক এফআইআর বাতিলের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।’

আদালত বলেন, ‘এ মামলার জন্য আলাদা করে সময় দেওয়া যাবে না। এটি সাধারণ নিয়মেই উত্থাপিত হবে। খুব বেশি মামলা নেই, ফলে এটিকে বিবেচনা করা হবে। না হলে আপনি (আইনজীবী) আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন। আমি এখন (আবেদন) মঞ্জুর করছি না।’

পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইনজীবী মুখোপাধ্যায় পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বিষয়টি আবার আদালতের নজরে আনার অনুমতি চান। আদালত জবাবে জানান, প্রথমে আবেদনটি জমা দেওয়া উচিত। তারপর বিষয়টি শুনানির তালিকায় আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জমায়েত হয়ে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। নানা হুমকিও দেয়।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রবেশপথের কয়েকটি থাম গেরুয়া রংও করে দেয় হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারীরা। তবে আনন্দবাজার পত্রিকা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আজ বুধবার ঘটনাটি তাদের কাগজে ছাপেনি। সেটিকে ভেতরের পাতায় একটি সাধারণ খবর হিসেবে ছাপা হয়েছে। সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলাও করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>