বিজ্ঞাপন
বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন তথা একঘরে করতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর আর্থিক চাপ প্রয়োগের এই পরিকল্পনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
তবে, ইইউ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ নেই বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউরো নিউজ।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক সরঞ্জাম কিংবা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সহায়তা দিতে অনীহা থাকায় দেশটির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর হুমকি ছাড়াও নানামুখী চাপ দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন চাপের কারণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান:
ইইউর বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই অভিযানের প্রশংসা করা হলেও নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় বা অভিযানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইইউ জানিয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তি সমাধানের পথ খোলা রাখা জরুরি।
অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত ব্রাসেলসের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রতি সমর্থন বলে ধরা গেলেও এর মানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান:
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যম। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন করে সামরিক মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে এবং এ জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, মোতায়েনের পরিসর ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কিন্তু, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এসব প্রতিবেদনকে ‘তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি যদিও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত অবাধ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কীভাবে বাস্তবসম্মত অবদান রাখা যায় তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিছেন, ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং ইরানের অবশিষ্ট আর্থিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন চাপ অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও ইউরো নিউজ
কেএম
বিজ্ঞাপন