আন্তর্জাতিক

উগ্রপন্থিদের দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল, এবার নজর আফ্রিকায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আফ্রিকার মালিতে উগ্রপন্থিদের দমন এবং সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিল উত্থাপিত হয়েছে। এ বিল উত্থাপন করেছেন ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান প্রার্থী জিমি পেনেত্তা ও জো উইলসন। ‘মালি সিকিউরিটি পার্টনারশিপ এন্ড কাউন্টারটেররিজম’ নামে উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে সাহেল অঞ্চলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। তবে, সাহেল অঞ্চলে (মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার) আগে থেকেই নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করে আসছে রাশিয়া।  তবে, সাহেল অঞ্চলে (মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার) আগে থেকেই নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করে আসছে রাশিয়া। আফ্রিকার সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে সাহেলজুড়ে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর বড় অংশের জন্য জামায়েত নুসরাত (JNIM) গোষ্ঠীটিকে দায়ী করা হচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে মূলত তিনটি বিষয় মোকাবিলা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তিনটি বিষয় হচ্ছে-ক) জামায়েত নুসরাত আল-ইসলাম (JNIM) ও আল-কায়েদার বিস্তার রোধ খ) জঙ্গিদের অর্থায়ন বন্ধ গ) সাহেলে রাশিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাব কমানো নতুন কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সীমিত নিরাপত্তা সাফল্যের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিল প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞ পর্যালোচনা করবে, কূটনৈতিক দুর্বলতা চিহ্নিত করবে এবং রাশিয়া কীভাবে শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও পশ্চিমা অংশীদারিত্বে প্রভাব ফেলছে তা মূল্যায়ন করবে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি জো উইলসন বলেন, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সমন্বিত মার্কিন কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মাধ্যমে এই আইন আঞ্চলিক অংশীদারদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে আমেরিকার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। প্রস্তাবিত আইনে মাধ্যমে আল-কায়েদা ও এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে মালিতে একটি কূটনৈতিক কৌশল তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি প্রতিবেশী নাইজার ও বুরকিনা ফাসোতে এর সম্ভাব্য নিরাপত্তা প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া, এই আইনে মালির স্বর্ণ খাত এবং অবৈধ বাণিজ্য থেকে জঙ্গিদের আয়ের বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—চাঁদাবাজি, চোরাচালান, জোরপূর্বক কর আদায়, নিরাপত্তার বিনিময়ে অর্থ আদায়। জামায়েত নুসরাত আল-ইসলামের (JNIM) বিস্তার এই উদ্যোগের মধ্যেই পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে জামায়েত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলেমিন গোষ্ঠী আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, জামায়েত নুসরাত আল-ইসলাম আল-কায়েদার সহযোগী গোষ্ঠী। এর ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। তারা এখন মালি ছাড়াও বুরকিনা ফাসো, নাইজার, বেনিন ও টোগোতেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জিমি পেনেত্তা বলেন, সাহেলের বৃহত্তর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ থেকে মালিকে আলাদা করে দেখা যায় না। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো কীভাবে তাদের প্রভাব বিস্তার করছে, সীমান্ত পেরিয়ে সম্পদ স্থানান্তর করছে এবং অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগাচ্ছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের আরও পরিষ্কার ধারণা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় মার্কিন কর্মকর্তারা এই গোষ্ঠির প্রভাব, শক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগ মূল্যায়ন করবেন। পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কীভাবে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি, জাতিগত উত্তেজনা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করছে তাও খতিয়ে দেখা হবে। সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব জঙ্গিদের অর্থায়নের পাশাপাশি এই বিলের আরেকটি লক্ষ্য হলো সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা। ২০২১ সালে রুশ ওয়াগনার বাহিনী মালিতে আসার পর থেকে দেশটির বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করে আসছে রাশিয়া। তবে, মস্কোর ভাড়াটে বাহিনীর উপস্থিতি সত্বেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা দাবি করে, তিনযাওয়াতানের-এর কাছে তারা ৮৪ জন ওয়াগনার যোদ্ধা এবং ৪৭ জন মালির সেনাকে হত্যা করেছে। এরপর রাশিয়া ওয়াগনারের-এর বড় অংশের দায়িত্ব আফ্রিকা কোর্পস-এর হাতে দেয়। বর্তমানে মালিতে আফ্রিকা কোর্পস-এর প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এরপরও হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট স্যান এলাকায় জামায়েত নুসরাতের হামলায় অন্তত ১০ জন মালির সেনা নিহত হয়। এছাড়া নামপালার কাছে আগের একটি হামলায় মালির সেনা ও রুশ সদস্য নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এদিকে মালি, নাইজার ও বুরকিনা ফাসো মিলে অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেট গঠন করেছে। তারা সীমান্তজুড়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রায় ৫ হাজার সদস্যের একটি যৌথ বাহিনী গড়ে তোলার কাজ করছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার আফ্রিকা কেএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>