বিজ্ঞাপন
কয়েক সেকেন্ডে ছবি বানানো, পুরোনো ছবি নতুন করে সাজানো, দীর্ঘ লেখা তৈরি কিংবা এআইয়ের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথোপকথন দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই সুবিধার পেছনে যে বিপুল কম্পিউটিং শক্তি প্রয়োজন, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারও।
এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরি বা ছোট একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সময় ব্যবহারকারীর চোখে কোনো বিদ্যুৎ খরচ দেখা যায় না। কাজটি হয় দূরের ডাটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী সার্ভারে। এসব সার্ভার চালাতে যেমন বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তেমনই অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হয় শীতলীকরণ ব্যবস্থা। অনেক ডাটা সেন্টারে সেই কুলিং ব্যবস্থায় পানিও ব্যবহার করা হয়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ১৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে এআই-কেন্দ্রিক ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। সংস্থাটি বলছে, ২০২৫ সালের প্রায় ৪৮৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা থেকে ২০৩০ সালে ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৯৫০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন
ট্রেন্ডে গা না ভাসালেই কি আপনি ব্যাকডেটেড?
তবে এর অর্থ এই নয় যে, একটি এআই প্রশ্ন করলেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বা পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি এআই কাজের শক্তি খরচও দ্রুত কমছে। আইইএ বলছে, সাধারণ টেক্সটভিত্তিক এআই প্রশ্নের শক্তি খরচ সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু একই সঙ্গে ভিডিও তৈরি, জটিল যুক্তি বা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের মতো তুলনামূলক ভারী কাজের ব্যবহার বাড়ছে, যেগুলোর শক্তি চাহিদা অনেক বেশি হতে পারে।
পানির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ডাটা সেন্টারের সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপ কমাতে সরাসরি পানি ব্যবহার হতে পারে। আবার ডেটা সেন্টারকে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরোক্ষভাবে পানি ব্যবহৃত হতে পারে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডাটা সেন্টারের প্রতি ওয়ার্কলোডের পানি ব্যবহারে বিপুল পার্থক্য থাকতে পারে কুলিং প্রযুক্তি, সার্ভারের দক্ষতা, বিদ্যুতের উৎস ও আবহাওয়ার মতো বিষয় এতে প্রভাব ফেলে।
তাই এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজন ছাড়া একই কাজ বারবার না করা, ছবি বা ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে অযথা অসংখ্যবার প্রম্পট না দেওয়া এবং ছোটখাটো সাধারণ প্রশ্নে অতিরিক্ত জটিল এআই মডেল ব্যবহার না করাই বেশি যুক্তিসংগত। একটি এআই ছবি ভালো না হওয়ায় ২০-৩০ বার নতুন করে তৈরি করার বদলে প্রম্পট আরও নির্দিষ্ট করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
এক মানুষের একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কেন, মনোবিজ্ঞান কী বলে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব শুধু একজন ব্যবহারকারীর কয়েকটি প্রম্পট দিয়ে বিচার করা যায় না। কোটি কোটি মানুষের ব্যবহার একসঙ্গে যোগ হলে তার প্রভাব বড় হয়ে ওঠে। তাই এআইকে ‘অপচয়ের প্রযুক্তি’ না ভেবে প্রয়োজন অনুযায়ী, সচেতনভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো পথ।
কেএসকে
বিজ্ঞাপন