ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

এআই যেভাবে বদলে দিচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্যা স্টাডি অব জার্নালিজম। প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিকতা ও মিডিয়া নিয়ে মূলত গবেষণাভিত্তিক কাজ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির একটি গবেষণা প্রতিবেদন আলোচনায় আসে। আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেলো। ২০১৬ সাল থেকে তারা সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য- এআই কীভাবে সংবাদ সংগ্রহ, তৈরি, যাচাই, বিতরণ ও মানুষের সংবাদ গ্রহণের অভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তা বোঝা। ২০২৬ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি এআই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়ক একটি কনফারেন্সে কথা বলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদকর্মী। গবেষণার অনেক বিষয় ভাবনার উদ্রেক করে, বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে। আরও পড়ুন সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে ঢাকায় কর্মশালা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এআইর ব্যবহার বাড়ছে বিভিন্নভাবে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ওই গবেষণা প্রতিবেদন, সম্মেলনে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ ও আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যমে এআইর ব্যবহার কোন দিকে যাচ্ছে, কোন দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটাই এ লেখার উদ্দেশ্য। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের গবেষণায় অনুযায়ী, এআই চ্যাটবট ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে মানুষের সংবাদ পাওয়ার একটি নতুন মাধ্যম। চ্যাটজিপিটি কিংবা গুগলের জেমিনি চ্যাটবট ব্যবহার করে মানুষ সংবাদ জানতে শুরু করেছে। গবেষণায় কারা এসব ব্যবহার করছে, কী উদ্দেশ্যে করছে এবং এর ফলে সংবাদমাধ্যমের মূল ওয়েবসাইটে পাঠকের ট্রাফিক ও সম্পৃক্ততা কীভাবে বদলাতে পারে- এসব বিষয়ও উঠে এসেছে। রয়টার্সের ওই গবেষণায় নিউজরুমে এআই ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এআই বিপুল পরিমাণ ডেটা ও নথি দ্রুত বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অত্যন্ত কঠিন কিছু অনুসন্ধানেও এআই অন্যতম সোর্স হয়ে উঠছে। আরও পড়ুন ডিআরইউতে কর্মশালা / সাংবাদিকরা জানছেন এআই ব্যবহার ও অপতথ্য মোকাবিলার কৌশল তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ঠেকানো। এআইর মাধ্যমে ফটোকার্ড পরিবর্তন বা তৈরি, লোগো পরিবর্তন, ছবি-ভিডিও তৈরি, কলরেকর্ড নকলের ঘটনা ঘটছে অহরহ। কোনো কোনো মিডিয়া অনেক সময় এসবে বিভ্রান্ত হচ্ছে। অনেক মিডিয়া নিজেরা চেষ্টা করছে দক্ষ ফ্যাক্টচেকিং টিম গঠন করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি-ভিডিও-খবরের জন্য ফ্যাক্টচেকিং অত্যাবশ্যক হয়ে উঠছে। কিন্তু কথা হলো ভবিষ্যতে এআই ফ্যাক্টচেকিং আরও শক্তিশালী করবে নাকি এআইনির্ভর মিসইনফরমেশনও ঠেকাবে। মিসইনফরমেশনকে এক কথায় বলা যায়, নিজে না জেনে-বুঝে কিংবা বিশ্বাস করে কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করা। আর ডিসইনফরমেশন ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো ভুল বা ভুয়া তথ্য। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের সম্মেলনে ব্রাজিল, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের ফ্যাক্টচেকাররা এআই দিয়ে কীভাবে মিসইনফরমেশন মোকাবিলা করা যায় তা আলোচনা করেন। স্পেনের ফ্যাক্টচেকার এক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলো অন্য ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান। কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও তারা নানাভাবে এআই টুল ব্যবহার করছে। ব্রাজিল একটি নিউজরুম টুল তৈরি করেছে যেটা রিয়েল টাইম ফ্যাক্টচেকিং করতে পারে। মজার বিষয় তারা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট যাচাইয়ে এআই নির্মিত টুল ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। এআইকে সোর্স হিসেবে নয়, সহায়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ তাদের। আরও পড়ুন কর্মশালায় বক্তারা / প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এআই সম্পর্কে জানা অপরিহার্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যাপকহারে এখন এআই ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ছবি তৈরি, তথ্য সংক্ষেপ করা, বানান-বাক্য ঠিক করা, ডেটা বিশ্লেষণ, ভয়েস টাইপিং, নিউজ এডিটিং কিংবা অনুবাদের কাজ করা হচ্ছে এআই দিয়ে। এখানে বড় চ্যালেঞ্জ এডিটিং কিংবা অনুবাদের ক্ষেত্রে। প্রথম দিকে অনেক সংবাদমাধ্যম প্রম্পট কিংবা এআইর কিছু প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসাসহ নিউজ প্রকাশ করেছে। তবে ধীরে ধীরে এআই কনটেন্টে যখন মানুষের ছোঁয়া বা নিউজরুমের সাব-এডিটররা মানবিক ছোঁয়া দিতে শুরু করেছেন তখন থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এআই ছবি কিংবা কনটেন্টে এমন কিছু পদচিহ্ন রেখে যায় যা মানবিক ছোঁয়া না পেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। কিন্তু সামনে এর চেয়ে বড় হুমকি হতে পারে পাঠক। কারণ অনেক পাঠক এখন সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর অনুসন্ধান না করে চ্যাটজিপিটি কিংবা গুগল জেমিনিতে অনুসন্ধান করছেন। আবার কিছু মানুষ মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের ভিড়ে সব নিউজকেই সন্দেহের চোখে দেখছে। এ বিষয়ে রয়টার্স ইনস্টিটিউটের এআই ও খবরের ভবিষ্যৎ শীর্ষক কনফারেন্সেও আলোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা। বিষয়টিকে তারা সংবাদ মাধ্যমের জন্য হুমকি হিসেবেই দেখছেন। পাঠক যদি গুগল সার্চ বা সরাসরি নিউজ ওয়েবসাইটে না গিয়ে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনিকে প্রশ্ন করে উত্তর পেয়ে যায়, তাহলে সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে আসবে কেন? এটি ভবিষ্যতের সংবাদ ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং গভীর চিন্তার বিষয় নিঃসন্দেহে। বিশ্বের বড় বড় সংবাদমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে সোচ্চার। তারা এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করেছে তাদের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া চ্যাটবটে ব্যবহারের জন্য। ফলে অনেক এআই কোম্পানি এবং মিডিয়া এখন যৌথভাবে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর এআই সিস্টেম প্রশিক্ষণের জন্য অনুমতি ছাড়া তাদের সাংবাদিকতার কনটেন্ট কপি করার অভিযোগে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সিয়াটল টাইমস ও নিউজডে। তাদের অভিযোগ, ওপেনএআই ও মাইক্রোসফট সংবাদপত্র দুটির ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে পেওয়ালের আড়ালে থাকা কনটেন্টও রয়েছে। এতে তাদের সাবস্ক্রাইবার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সিয়াটল টাইমস ও নিউজডে আদালতের কাছে এমন আদেশ চেয়েছে, যাতে তাদের কনটেন্টের কপি ও সেই কনটেন্ট অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ ডেটাসেট বা এআই মডেল বিলুপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গ্রুপ ও ওপেনএআইয়ের মধ্যে অংশীদারত্বমূলক একটি চুক্তি হয়েছে। এই অংশীদারত্বের আওতায় এখন চ্যাটজিপিটিতে এক্সপ্রেস গ্রুপের অংশগ্রহণকারী প্রকাশনাগুলোর কনটেন্ট উপস্থাপনের পদ্ধতি আরও উন্নত করা হবে। আসলে কোন দিকে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোই বা কীভাবে আরও সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করতে পারে এআই- এসব জানার জন্য আমাদের বিশ্ব মডেলে চোখ রাখাই আপাতদৃষ্টিতে বাঞ্ছনীয় বলে অনুমেয়। এএসএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>