বিজ্ঞাপন
জুলাই অভ্যুত্থানকালে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক পুলিশের আবেদনের শুনানি নিয়ে নুরুল ইসলাম সুজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে মামলার বাদী তাকে সন্দেহ করেননি এবং এজাহারেও তার নাম নেই। তারপরও কী কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুজনের আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী মহাসড়ক এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ হাওলাদার। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হাতবোমা নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে পারভেজ গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর পারভেজের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেফতার দেখাতে গত ১৯ আগস্ট আদালতে আবেদন করে পুলিশ। সেদিন তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
রোববার শুনানি শেষে নুরুল ইসলাম সুজনের পক্ষে থাকা আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে পাঁচটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছিল। ওই পাঁচটি মামলাতেই তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু সবগুলো মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার যাত্রাবাড়ীর একটি নতুন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হলো।’
আইনজীবীর দাবি, নতুন মামলাটি একটি সিআর মামলা। সেখানে বাদী নুরুল ইসলাম সুজনকে সন্দেহ করেননি এবং মামলার এজাহারেও তার নাম নেই। তারপরও রাষ্ট্র তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
মোর্শেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘বাদী যেখানে তাকে সন্দেহ করছেন না, এজাহারেও যেখানে তার নাম নেই, সেখানে রাষ্ট্র কেন তাকে সন্দেহ করছে—এর কোনো দৃশ্যমান কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেটি আমাদের কাছে অদৃশ্য।’
আরও পড়ুন
জামিন না মঞ্জুর, সাবেক রেলমন্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণ
তিনি আরও বলেন, ‘একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুক্তির আদেশ জেলে পৌঁছানোর আগেই বা মুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে তাকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এভাবে একের পর এক মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আইনজীবীর ভাষ্য, নুরুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে আগে করা পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর এই প্রক্রিয়া আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, ‘শুধু কারাগারে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে যদি একজন ব্যক্তিকে একের পর এক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়, তাহলে সেটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। নুরুল ইসলাম সুজন একজন সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক রেলমন্ত্রী। তার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।’
এদিকে মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় পারভেজ হাওলাদার নিহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামির আত্মগোপন ঠেকানোর যুক্তিতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।
নুরুল ইসলাম সুজনকে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। এরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
তবে তার আইনজীবীর বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা বা রাষ্ট্রপক্ষের কাছ থেকে ‘অদৃশ্য কারণ’ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বাদী কেন নুরুল ইসলাম সুজনকে সন্দেহ করেননি এবং তদন্তে কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। আদালতের আদেশ বা তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন