বিজ্ঞাপন
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) আসন্ন ২৮তম আসরে নতুনত্ব এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবারই প্রথম ব্যাগি ক্যাপ পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলগুলোর অধিনায়কের হাতে এই ক্যাপ হস্তান্তর করা হয়। ব্যাগি ক্যাপ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অধিনায়করা।
দীর্ঘদিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ইয়াসির আলী রাব্বি মনে করেন, এমন আয়োজন তরুণ ক্রিকেটারদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। আর সিলেটের জাকির হাসান মনে করছেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের গুরুত্ব ও টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
২০১২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ইয়াসিরের। এরপর নিয়মিত এনসিএল খেললেও এবারই প্রথম এমন আয়োজনে ব্যাগি ক্যাপ পেলেন চট্টগ্রামের এই ব্যাটার। ক্যাপ নিয়ে ইয়াসির বলেন, ‘আমার ২০১২ সালে অভিষেক। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এটাই আমার প্রথম যে এনসিএল নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে বা কোনো সেরিমনি করে কিছু দেওয়া হচ্ছে। যখন থেকে শুনেছি এরকম একটা সেরিমনি হবে, তখন থেকেই রোমাঞ্চিত ছিলাম।’
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাগি ক্যাপের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করি, তারা জানি ব্যাগি ক্যাপটা কতটা সম্মানের। এনসিএল বা ফার্স্ট ক্লাসে এরকম একটা আয়োজন করা হলে জুনিয়র প্লেয়ারদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের খেলার মানও আল্লাহর রহমতে অনেক দিক থেকে আরও উন্নতি হবে।’
এনসিএলের সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সিলেট অধিনায়ক জাকির। তার মতে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দেরও নিজেদের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ বাড়বে।
জাকির বলেন, ‘আমি গত ২-৩ বছর ধরে এটা চিন্তা করতাম যে একজন প্লেয়ার ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলে যাতে অন্তত তার ফ্যামিলি চালাতে পারে। যারা নতুন আসে বা এখনো ন্যাশনাল টিমে বা টপ ক্যাটাগরির প্লেয়ার না, তাদের টপ ক্যাটাগরির সঙ্গে কম্পিটিশন করার জন্য যে ফাইনান্সটা দরকার, আমার কাছে মনে হয় এখন থেকে সেটা সম্ভব।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও তুলে ধরার আহ্বানও জানান এই ব্যাটার। তার ভাষায়, ‘টেস্ট কালচারটা ফুটে ওঠেনি, কারণ আমরা ওইভাবে পরিচিত করতে পারিনি। আমাদের অনেকেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে অতটা অ্যাপ্রিশিয়েট করেন না। কিন্তু এটা ছাড়া তো কেউ টেস্ট খেলতে পারবে না।’
ব্যাগি ক্যাপের গুরুত্ব তুলে ধরে জাকির আরও বলেন, ‘এই ক্যাপের কতটা মূল্য আছে, একটা গর্ব আছে। প্রত্যেকটা ডিভিশন একটা গর্বের ব্যাপার। এর সঙ্গে যখন সে ন্যাশনাল টিমে আসবে, ন্যাশনাল টিমের ব্যাগি ক্যাপটা পাবে, তার ফিলিংসটা অন্যরকম হবে যে সে একটা সর্বোচ্চ লেভেলের জায়গায় অ্যাচিভ করেছে। এই কালচারটা আমার কাছে মনে হচ্ছে খুব ভালো।’
এদিকে এনসিএলের পারিশ্রমিক বাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলীও। তিনি বলেন, ‘পারিশ্রমিক বাড়ানো অবশ্যই আমাদের জন্য খুব ভালো একটা ইতিবাচক ব্যাপার প্রত্যেকটা ডোমেস্টিক প্লেয়ারের জন্য। একই সঙ্গে এর সঙ্গে আরও বেশি দায়িত্ব আসছে। বোর্ড আপনাকে আরও ভালো পারিশ্রমিক দিচ্ছে, তাই প্লেয়ার হিসেবেও আমাদের আরও ভালো করার দায়িত্বটা বেড়ে গেছে।’
খুলনার মিঠুনও এবারের আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এবার আমাদের খুব ভালো আয়োজন করতেছে তারা। আগে যেরকম ছিল, অবকাঠামো ওইরকম ছিল না। কিন্তু এবার আমাদের খুব ভালো আয়োজন করতেছে তারা। এটা আরও আগে হলে অনেক ভালো হতো।’
এসকেডি/আইএইচএস
বিজ্ঞাপন