পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ মো. রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিতই পোস্ট দিচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষের একটি পক্ষ রাতে দায়িত্ব পালন করা দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।
রায়হান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার অ্যান্টি (প্রতিপক্ষ) গ্রুপগুলো আমাকে ফাঁসানোর জন্য অনেক রকমের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা রাতে ডিউটি করে তাদের মধ্যে থেকে দুজন পুলিশ নাকি মারতে হবে—হয় নাতোয়ান বাগিচা, না হয় পূর্ব রাউজান।’ এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘আজিজ আর ডাকাত গ্রুপ’ জড়িত বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে রায়হানের এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। রায়হান আরও দাবি করেন, তাঁর ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম ব্যবহার করে অন্যরা সুবিধা নিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। রাউজানে যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে। এখানে কেউ কারও নাম ব্যবহারের সুযোগ নেই।
রায়হান এর আগেও ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন। দুই দিন আগে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একমাত্র কাছের মানুষের মাধ্যমে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ঘুরে দাঁড়াতে কারও কাছে মাথা নত করব না। সময় হলে সব হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেব।’
১২ সেপ্টেম্বর দেওয়া আরেক পোস্টে রায়হান লেখেন, ‘ছিলাম সামাজিক, বানিয়ে দিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী। আড়ালের রায়হান কত খারাপ, তা বুঝিয়ে দেব।’
এর আগে গত ২০ আগস্টও পুলিশের উদ্দেশে ফেসবুকে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন রায়হান। পরে ৩ সেপ্টেম্বর রাউজানে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিম হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর ফেসবুক স্টোরিতে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ভিডিওটি কখন ধারণ করা, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
রায়হানকে ধরতে না পারার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ১৪ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রায়হান রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছেন। অবস্থান শনাক্তকরণ এড়াতে তিনি বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা। ওই এলাকায় যানবাহনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ নেই এবং মুঠোফোন নেটওয়ার্কও দুর্বল বা অনুপস্থিত হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই নোয়াখালীর সেনবাগে একটি বাসার ছাদ থেকে পুলিশি অভিযান টের পেয়ে রায়হান পালিয়ে যান।
রায়হানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর নামে বা পরিচয়ে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে চাঁদা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সাম্প্রতিক সময়ে এসেছে।
তবে রায়হানের দাবি, তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিরা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>