বিজ্ঞাপন
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী হরিয়ান সুগার মিলকে আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেডের রাচিক ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত আখচাষি সমাবেশ ও ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুল হক মিলন বলেন, হরিয়ান সুগার মিল সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন দেশের সব চিনিকলে একযোগে জুম পদ্ধতিতে আখ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। এর অংশ হিসেবে রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেডেও নতুন রোপণ মৌসুমের কার্যক্রম শুরু হয়।
এমপি মিলন বলেন, হরিয়ান সুগার মিল রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানের বিপুল সম্পদ ও সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে মিলটি আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। তাই ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি মিলটির আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু মিলের যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করলেই হবে না; এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মৌসুমি শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি জানিয়ে শফিকুল হক মিলন বলেন, মৌসুমি শ্রমিকেরা বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও চাকরি স্থায়ী করার সুযোগ পান না। তাদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক অবসরে যাওয়ার পরও তাদের ফান্ড, পাওনা অর্থ ও চিকিৎসাসুবিধা নিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘদিনের শ্রমের পর একজন শ্রমিক যাতে অবসরজীবনে আর্থিক ও চিকিৎসাসংকটে না পড়েন, সে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান (সুরুজ)। বক্তব্য দেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান, পরিচালক (সিডিআর) আব্দুল আলীম ও প্রধান (সিপিই) ড. জেবুন নাহার।
আরও পড়ুন
রংপুরে কমেছে মুরগি-ডিমের দাম, স্বস্তি ফিরছে সবজির বাজারে
সমাবেশে আখচাষিরা উন্নত জাতের আখবীজ সরবরাহ, সময়মতো সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ প্রদান, আখের ন্যায্যমূল্য ও দাম বৃদ্ধি, মৌসুমের শুরুতেই ভর্তুকি প্রদান এবং কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানান।
আখচাষিরা জানান, একই জমিতে আখের পাশাপাশি মুলা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সাথি ফসল চাষ করা সম্ভব। এতে কৃষকের বাড়তি আয় হয় এবং আখ চাষে তাদের আগ্রহও বাড়ে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তারা আরও জানান, চিনিকল আধুনিকায়ন করা হলে আখের উৎপাদন ও মাড়াই সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি উন্নতমানের চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে একদিকে চিনিকলের লোকসান কমবে, অন্যদিকে আখচাষিরাও তাদের উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন